লটারির টিকিটের জন্য ছেলের গলায় বন্দুক! বাবার বিরুদ্ধে ভয়ানক অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য

লটারির টিকিটের টাকার লোভে পারিবারিক বিবাদের চরম পরিণতি। নিজের বাড়িতেই লটারির টাকা হাতানোর জন্য ছেলেকে মাথায় আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে খুনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠল বাবার বিরুদ্ধে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে নির্মল ঘোষ নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে, যিনি লটারির টিকিট জেতার পর আক্ষরিক অর্থেই হিংস্র হয়ে ওঠেন। পরিবারের সদস্যদের উপর এমন অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন পার্থ সরকার নামে এক ব্যক্তি, যিনি এই ঘটনার চাক্ষুষ সাক্ষী।

পার্থ সরকার জানিয়েছেন, লটারির টিকিট হাতে পাওয়ার পরই নির্মল ঘোষের আচরণ বদলে যায়। টাকা হাতানোর নেশায় তিনি নিজের ছেলেই তীর্থঙ্কর ঘোষের দিকে আগ্নেয়াস্ত্র তাক করেন। অভিযোগ, নির্মলবাবু নিজের ছেলের গলা টিপে ধরে জোর করে সেই লটারির টিকিট কেড়ে নেন। পারিবারিক সম্পর্কের গভীরতা ছাপিয়ে টাকার মোহ এখানে এতটা প্রবল হয়ে ওঠে যে, বাবা নিজের সন্তানকে মৃত্যুর ভয় দেখাতেও পিছপা হননি।

ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিতে গিয়ে পার্থ সরকার এক অনুষ্ঠানে জানিয়েছেন, সেই মুহূর্তে নির্মল ঘোষের মানসিক অবস্থা ছিল ভয়ঙ্কর। আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নিয়ে তিনি গোটা পরিবারকে জিম্মি করে ফেলেন। শুধু শারীরিক নির্যাতনই নয়, দীর্ঘক্ষণ ধরে চলা এই তাণ্ডবে পরিবারের অন্য সদস্যরাও আতঙ্কে কাঁপছিলেন। পার্থ সরকার যখন এই ঘটনার বর্ণনা দিচ্ছিলেন, তখন তাঁর কথা শুনে উপস্থিত শ্রোতাদের মধ্যেও অস্বস্তি ছড়িয়ে পড়ে। তিনি জানিয়েছেন, ঘণ্টাখানেক ধরে ওই বাড়িতে যা চলছিল, তা যেকোনো হরর সিনেমাকেও হার মানায়।

পারিবারিক বিবাদ বা অর্থের লোভে অনেক সময়ই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে, কিন্তু লটারির টিকিট পাওয়ার পর একজন বাবার এমন ভূমিকা সমাজকে ভাবাচ্ছে। লটারির অর্থ কি সম্পর্ককেও ভুলিয়ে দিতে পারে? সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের মতে, নির্মল ঘোষের এই আচরণ কেবল অপরাধমূলকই নয়, বরং মানসিকভাবেও অসুস্থতার লক্ষণ। লটারির টিকিটের টিকিট পাওয়ার পর থেকে তিনি যেভাবে পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিলেন, তা এককথায় নজিরবিহীন।

এখন গোটা ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক শোরগোল পড়েছে। অভিযুক্ত নির্মল ঘোষের এই কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তুলেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী। অভিযোগকারী পার্থ সরকারের এই সাক্ষাৎকার প্রকাশের পর থেকেই ঘটনাটি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বলে জানা গেছে।