এবার আরও আরামদায়ক ও নিরাপদ রেল ভ্রমণ! দীর্ঘ দূরত্বের সব ট্রেনের খোলনলচে বদলে ফেলল উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল

যাত্রী পরিষেবার আধুনিকীকরণে এক অনন্য নজির সৃষ্টি করল উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে (NFR)। রেলের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই জোনের অন্তর্গত দীর্ঘ দূরত্বের সমস্ত যাত্রীবাহী ট্রেনকে প্রথাগত আইসিএফ (ICF) কোচ থেকে আধুনিক ও উন্নতমানের লিঙ্কে হফম্যান বুশ (LHB) কোচে সফলভাবে উন্নীত করা হয়েছে। এই আমূল পরিবর্তনের ফলে এখন উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের ৫৫টি এবং অন্যান্য রেলওয়ে জোনের ৪৮টি—অর্থাৎ মোট ১০৩টি দীর্ঘ দূরত্বের ট্রেন এখন সম্পূর্ণভাবে এলএইচবি রেক দিয়ে চলাচল করছে। এর মাধ্যমে দীর্ঘ দূরত্বের ট্রেন পরিষেবার ক্ষেত্রে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে এক সম্পূর্ণ ‘এলএইচবি মানদণ্ড’ অর্জনকারী জোন হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করল।

ভারতীয় রেলের সামগ্রিক সুরক্ষা ও স্বাচ্ছন্দ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে এই কাজ চূড়ান্ত রূপ পায়। এই সময়ে ছয় জোড়া দীর্ঘ দূরত্বের ট্রেন পরিষেবাকে আইসিএফ থেকে আধুনিক এলএইচবি কোচে রূপান্তরিত করা হয়েছে। পাশাপাশি, এলএইচবি রেকযুক্ত পাঁচটি নতুন দীর্ঘ দূরত্বের ট্রেনও চালু করা হয়েছে। এমনকি রানি কমলাপতি-আগরতলা-রানি কমলাপতি স্পেশাল এক্সপ্রেস-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনগুলোকেও এলএইচবি কোচের আওতায় আনা হয়েছে। ফলে যাত্রীদের দীর্ঘ যাত্রাপথ এখন আরও নিরাপদ ও আনন্দদায়ক হওয়ার সুযোগ তৈরি হলো।

জার্মান প্রযুক্তিতে নির্মিত এলএইচবি কোচের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর নিরাপত্তা। এই কোচগুলো ‘অ্যান্টি-ক্লাইম্বিং’ ও ‘অ্যান্টি-টেলিস্কোপিক’ বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। অর্থাৎ, কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনায় বা সংঘর্ষের সময় কোচগুলো একটির ওপর আরেকটি উঠে না গিয়ে বা দুমড়ে-মুচড়ে না গিয়ে যাত্রীদের জীবন রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। স্টেইনলেস-স্টিল পরিকাঠামোয় তৈরি এই কোচগুলোতে ফায়ার সেফটি ব্যবস্থা অত্যন্ত উন্নত।

শুধু নিরাপত্তাই নয়, এলএইচবি কোচ ভ্রমণের অভিজ্ঞতায় এনেছে ব্যাপক পরিবর্তন। উচ্চগতিতে চলাচলের সময় এই কোচে কম্পন ও শব্দের মাত্রা আইসিএফ কোচের তুলনায় অনেকটাই কম। উন্নত সাসপেনশন ব্যবস্থা ও আধুনিক ব্রেকিং সিস্টেম যাত্রীদের এক ঝকঝকে ও আরামদায়ক সফরের প্রতিশ্রুতি দেয়। রক্ষণাবেক্ষণের কাজ কম হওয়ায় ট্রেনের যান্ত্রিক নির্ভরযোগ্যতাও অনেক বেশি। সব মিলিয়ে, উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের এই উদ্যোগ যাত্রী সুরক্ষার পাশাপাশি ভারতীয় রেলের পরিচালনগত দক্ষতাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল। যাত্রীদের এখন আরও সুগম ও কোলাহলমুক্ত দীর্ঘ যাত্রার অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করাই লক্ষ্য।