চোখের দফারফা! স্মার্টফোনের নেশায় হারিয়ে যাচ্ছে শিশুদের দৃষ্টিশক্তি, জানুন বাঁচার উপায়

আগের দিনে স্কুল ছুটির পর বন্ধুদের সঙ্গে সাইকেল চালানো বা মাঠের দৌড়াদৌড়িতেই কাটত শিশুদের বিকেল। কিন্তু আজকের আধুনিক জীবনযাত্রায় সেই শৈশব কার্যত বিলুপ্ত। স্কুল, প্রাইভেট টিউশন, গানের ক্লাস এবং চার দেওয়ালের গণ্ডিতেই বন্দি আজকের প্রজন্ম। এর প্রধান কারণ হিসেবে উঠে আসছে খেলার মাঠের অভাব এবং প্রযুক্তিনির্ভর জীবনধারা। যৌথ পরিবারের অভাব এবং অভিভাবকদের ব্যস্ততার কারণে ‘স্ক্রিন’ বা ডিজিটাল ডিভাইস শিশুদের একমাত্র খেলার সাথী হয়ে দাঁড়িয়েছে। টিভি, ট্যাবলেট কিংবা স্মার্টফোন—সবই এখন শিশুদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। কিন্তু অভিভাবকরা না চাইলেও এই অভ্যাসের ফলে অজান্তেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিশুর বিকাশমান চোখ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটানা স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার ফলে শিশুদের মধ্যে ‘মায়োপিয়া’ বা ক্ষীণদৃষ্টির সমস্যা মহামারী আকার ধারণ করেছে। খুব কাছের বস্তুর দিকে দীর্ঘক্ষণ তাকিয়ে থাকার ফলে চোখের পেশির ওপর প্রবল চাপ পড়ে, যা পরবর্তীকালে দূরের জিনিস ঝাপসা দেখার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, গ্রামের খোলা হাওয়ায় বড় হওয়া শিশুদের তুলনায় শহুরে শিশুদের মধ্যে মায়োপিয়া হওয়ার সম্ভাবনা দুই থেকে তিন গুণ বেশি। সূর্যের আলো এবং বাইরের শারীরিক কার্যকলাপই হলো এই সমস্যা মোকাবিলার প্রধান রক্ষাকবচ, যা আজকের শিশুদের জীবন থেকে পুরোপুরি হারিয়ে গিয়েছে।
অনেক সময় শিশুরা নিজেরাও বুঝতে পারে না যে তাদের দৃষ্টিশক্তি কমছে, কিংবা অনেক সময় ভয়ের কারণে তা গোপন করে। তাই অভিভাবকদের সতর্ক হওয়া খুবই জরুরি। সন্তান যদি টিভির খুব কাছে বসে থাকে, বই পড়ার সময় চোখ কচলায়, কিংবা দূরের কোনো জিনিস চিনতে ভুল করে—তবে দেরি না করে দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। স্কুলে বছরে একবার চক্ষু পরীক্ষা করালেও তা যথেষ্ট নয়, কারণ দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তন যেকোনো সময় ঘটতে পারে।
এই সমস্যা প্রতিরোধে অভিভাবকদের জন্য রয়েছে কিছু জরুরি টিপস। শিশুকে প্রতিদিন অন্তত দুই ঘণ্টা বাইরের আলো-বাতাসে খেলাধুলার সুযোগ করে দিন। সূর্যের আলো চোখের স্বাভাবিক বিকাশ বজায় রাখতে সাহায্য করে। বাড়িতে ‘স্ক্রিন-ফ্রি’ সময় নির্ধারণ করুন এবং স্ক্রিন ব্যবহারের ক্ষেত্রে ‘20-20-20’ নিয়মটি মেনে চলার অভ্যাস করান। প্রতি ২০ মিনিট স্ক্রিন ব্যবহারের পর ২০ সেকেন্ডের বিরতি নিয়ে অন্তত ২০ ফুট দূরের কোনো বস্তুর দিকে তাকাতে হবে। প্রযুক্তি আমাদের জীবনের অংশ হলেও, শিশুর চোখের স্বাস্থ্যের জন্য খোলা আকাশ, সূর্যের আলো এবং শারীরিক সক্রিয়তার কোনো বিকল্প নেই। তাই ঘরের দরজা খুলে দিয়ে শিশুকে বাইরে বের করে দেওয়াই হবে আপনার সন্তানের চোখের জন্য সবচেয়ে বড় উপহার।