দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়দিঘিতে ফের কাটমানির অভিযোগ ঘিরে তীব্র উত্তেজনা ছড়াল। এবার কাঠগড়ায় এক পঞ্চায়েত প্রধানের স্বামী। সরকারি আবাসন প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা তোলার অভিযোগে সোমবার উত্তাল হয়ে উঠল কৌতলা গ্রাম। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে ভয় দেখিয়ে ও প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন অভিযুক্ত।
ঘটনার সূত্রপাত সোমবার সকালে। কৌতলা গ্রামের বহু মানুষ অভিযোগ করেন যে, সরকারি ঘর পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পঞ্চায়েত প্রধানের স্বামী প্রত্যেকের কাছ থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা নিয়েছেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ঘর পায়নি কেউ। এরপরই সোমবার সকালে ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন স্থানীয় মহিলারা। ক্ষুব্ধ মহিলারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ওই ব্যক্তিকে ঘিরে ধরেন এবং কাটমানির হিসাব চাইতে শুরু করেন।
পরিস্থিতি দ্রুত হাতের বাইরে চলে যায়। উপস্থিত মহিলারা অভিযোগ করেন, বারংবার আবেদন করা সত্ত্বেও কোনো সদুত্তর মেলেনি। এই পরিস্থিতিতে ক্ষিপ্ত গ্রামবাসীরা অভিযুক্তকে মারধর করেন বলে অভিযোগ। প্রায় ঘণ্টাখানেক ধরে চলে বিক্ষোভ। অভিযুক্তকে ঘিরে ধরে রীতিমতো নাজেহাল করা হয়। ঘটনাস্থলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা দাবি তোলেন, অবিলম্বে কাটমানির টাকা ফেরত দিতে হবে এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে বছরের পর বছর ধরে এলাকায় এই দুর্নীতি চালানো হচ্ছে। গরিব মানুষ যারা সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য, তাদেরও টাকা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। পঞ্চায়েত প্রধানের স্বামী হওয়ার সুবাদে তিনি এলাকায় এমন এক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন, যার ফলে সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে ভয় পায়। তবে আজ মহিলারা রুখে দাঁড়ানোয় গোটা বিষয়টি প্রকাশ্যে চলে এল।
খবর পেয়ে রায়দিঘি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও, গ্রামবাসীর ক্ষোভের মুখে পড়তে হয় তাদেরও। পুলিশ অভিযুক্তকে উদ্ধার করার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত হয়। পরে পুলিশি হস্তক্ষেপে অভিযুক্তকে উদ্ধার করে নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, অভিযুক্তের কঠোর শাস্তি চাই এবং প্রতারণার মাধ্যমে নেওয়া টাকা অবিলম্বে সরকারি কোষাগারে ফিরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি গ্রামবাসীদের ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলের অভিযোগ, শাসকদলের মদতেই এলাকায় এই কাটমানি সংস্কৃতি রমরমিয়ে চলছে। পঞ্চায়েত স্তরের জনপ্রতিনিধিদের ঘনিষ্ঠরা এভাবে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা বিক্রির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা কামাচ্ছে। যদিও এই বিষয়ে স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধানের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে খবর, গ্রামবাসীদের অভিযোগের ভিত্তিতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করার প্রক্রিয়া চলছে। এই ঘটনায় জড়িত অন্যদেরও চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে।





