রাতবিরেতে অ্যাম্বুলেন্সের ঝক্কি শেষ, রাজ্যে প্রথমবার আসানসোলে ‘যাত্রীসাথী’ অ্যাপে যুক্ত জরুরি পরিষেবা

কলকাতায় বিভিন্ন বেসরকারি ক্যাব অ্যাপের পাশাপাশি সরকারি ‘যাত্রীসাথী’ (Jatri Sathi) অ্যাপ বিগত বছর থেকেই আসানসোল শিল্পাঞ্চলে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। এবার রাজ্যবাসীর সুবিধার্থে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিল সরকার। রাজ্যে প্রথমবার আসানসোলেই ‘যাত্রীসাথী’ অ্যাপের মাধ্যমে মিলবে অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা।
আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশের কমিশনার সুনীল চৌধুরী বৃহস্পতিবার এই ঘোষণা করে জানান, এই পরিষেবার ফলে সাধারণ মানুষের রাতবিরেতে অ্যাম্বুলেন্স ডাকার ঝক্কি এবং অতিরিক্ত ভাড়া দেওয়ার সমস্যা পুরোপুরি মিটতে চলেছে।
কেন এই উদ্যোগ?
মফস্বল এলাকায় গভীর রাতে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া যেমন কঠিন হয়, তেমনই অ্যাম্বুলেন্স চালকরা প্রায়শই আকাশছোঁয়া ভাড়া হাঁকেন। রোগীর পরিবারের অসহায়তার সুযোগ নিয়ে বেশি ভাড়া দিতে বাধ্য হন সাধারণ মানুষ। আসানসোল-দুর্গাপুরের পুলিশ কমিশনার সুনীল চৌধুরী জানান, এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি দিতেই রাজ্যের মধ্যে আসানসোলে প্রথম এই অ্যাপের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবাকে যুক্ত করা হলো।
কড়া নিয়ম ও নির্ধারিত ভাড়া
পুলিশ কমিশনার জানান, সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য প্রায় ১৭০টি অ্যাম্বুলেন্সকে এই অ্যাপের আওতায় আনা হয়েছে। অ্যাম্বুলেন্স চালকদের জন্য জারি করা হয়েছে বেশ কিছু কড়া নিয়ম। কমিশনারের কথায়, “যদি কোনো চালক বুকিং নিয়ে নেন, তাঁকে সরকার নির্ধারিত ভাড়াতেই যেতে হবে। কোনোভাবেই সেই বুকিং বাতিল করতে পারবেন না।”
তিনি আরও স্পষ্ট করেন, রাতের দিকে যে অ্যাম্বুলেন্সগুলি সক্রিয় থাকবে, সেগুলির জন্য সরকার পক্ষ থেকে সামান্য বেশি ভাড়া নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে, যাতে চালকদের অসম্মতি না থাকে। যাত্রীরা অ্যাপেই সরকার নির্ধারিত ভাড়া দেখতে পাবেন। যদি কোনো চালক বুকিং গ্রহণ করার পরও বাতিল করেন বা অতিরিক্ত ভাড়া চান, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে অভিযোগ জানালে সেই চালকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই পরিষেবা চালু হওয়ায় শিল্পাঞ্চলের মানুষ উপকৃত হবেন বলে দাবি করেছেন পুলিশ কমিশনার।