রাজ্য পুলিশে বড় রদবদল; এডিজি সিআইডি থেকে সরলেন সুপ্রতিম সরকার, দায়িত্ব পেলেন নতুন মুখ!

রাজ্য পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষস্তরে বড় ধরনের রদবদল ঘটাল নবান্ন। মঙ্গলবার জারি করা এক উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনায় কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার তথা আইপিএস সুপ্রতিম সরকারকে এডিজি সিআইডি (CID) পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁকে পাঠানো হয়েছে এডিজি টেলিকম হিসেবে, যা পুলিশ মহলে তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্বপূর্ণ পদ বলেই পরিচিত। সুপ্রতিম সরকারের জায়গায় এডিজি সিআইডি পদে আনা হয়েছে নটরাজন রমেশবাবুকে।

এই প্রশাসনিক রদবদলের আবহে সবথেকে উল্লেখযোগ্য সংযোজন হলো ডিরেক্টর অব ইকোনমিক অফেন্স পদে কে জয়রামনের নিযুক্তি। রাজ্য প্রশাসন সূত্রের খবর, বিগত তৃণমূল আমলের বিভিন্ন আর্থিক দুর্নীতির তদন্তের ভার তাঁর কাঁধেই তুলে দেওয়া হয়েছে। আইপিএস কে জয়রামন একজন সৎ ও দক্ষ অফিসার হিসেবে সুপরিচিত, তাই এই পদে তাঁর নিয়োগকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটেও বড়সড় রদবদল আনা হয়েছে। ত্রিপুরারি অথর্ভকে বিধাননগরের পুলিশ কমিশনারের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর জায়গায় নতুন পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন অমিত রাথোড়।

সূর্যপুরের সাম্প্রতিক ঘটনা ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অসন্তোষের পরেই যে বারুইপুর পুলিশ জেলাকে নিশানা করা হয়েছে, তা এই রদবদলের চিত্র থেকেই স্পষ্ট। ওই ঘটনায় দুই অ্যাডিশনাল এসপি (ASP)-কে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পিনাকি দত্তের জায়গায় নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন অতীশ বিশ্বাস। ঘটনার দিন কেন পুলিশ বাহিনী পৌঁছাতে দেরি করেছিল, তা নিয়ে খোদ মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এই প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হলো।

উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন ঘোষণা হওয়ার ঠিক পরেই সুপ্রতিম সরকারকে কলকাতার পুলিশ কমিশনার পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। তাঁকে এডিজি সিআইডি পদে পাঠানো হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ভিনরাজ্যের নির্বাচনে পুলিশ অবজারভার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে তামিলনাড়ুর পাঁচটি বিধানসভা কেন্দ্রেও তাঁকে পাঠিয়েছিল কমিশন। এবার সেখান থেকেও তাঁকে সরিয়ে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ এডিজি টেলিকম পদে নিয়োগ করা হলো। রাজ্য পুলিশ যে ওয়্যারলেস টেলিকমিউনিকেশন সিস্টেম ব্যবহার করে, তা দেখভাল করাই এই পদের মূল কাজ। পুলিশ প্রশাসনের এই সামগ্রিক পরিবর্তন আগামী দিনে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।