বিয়ের কয়েকমাসেই ভাঙনের সুর! সতীর্থের সঙ্গে স্ত্রী’র প্রতারণার অভিযোগে তোলপাড় অস্ট্রেলীয় ক্রিকেট

অস্ট্রেলীয় ক্রিকেট মহলে বর্তমানে মাঠের খেলার চেয়ে বেশি চর্চায় উঠে এসেছে দলের সহ-অধিনায়ক অ্যাশলে গার্ডনারের ব্যক্তিগত জীবন। তাঁর স্ত্রী মনিকা রাইট এবং সতীর্থ ক্রিকেটার জর্জিয়া ভলকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্ক রীতিমতো আলোড়ন ফেলেছে সামাজিক মাধ্যমে। ২০২০ সালে একটি অনলাইন অ্যাপের মাধ্যমে পরিচিত হওয়া অ্যাশলে গার্ডনার ও মনিকা রাইটের দীর্ঘ পাঁচ বছরের প্রেম পরিণতি পেয়েছিল ২০২৫ সালের এপ্রিলে। ঘরোয়া পরিবেশে ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের উপস্থিতিতে তাঁদের বিবাহ সম্পন্ন হয় এবং সেই সময় তাঁদের সম্পর্কের মিষ্টি মুহূর্তগুলি প্রকাশ্যে এসেছিল। কিন্তু বিয়ের মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই সেই সম্পর্কের ভিত নড়বড়ে হয়ে ওঠে বলে দাবি করা হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর ভারতে অনুষ্ঠিত মহিলা বিশ্বকাপ চলাকালীন সময়ে অ্যাশলে গার্ডনার এবং তাঁর সতীর্থ জর্জিয়া ভলের মধ্যে ঘনিষ্ঠতার সূত্রপাত হয়। এই ঘনিষ্ঠতাই গার্ডনার ও মনিকার দীর্ঘদিনের দাম্পত্য জীবনে অশান্তির কালো মেঘ ডেকে আনে। এই বিতর্ক প্রকাশ্যে আসে মনিকা রাইটের একটি ইনস্টাগ্রাম স্টোরির মাধ্যমে। মনিকা সেখানে জর্জিয়া ভলের একটি ছবি পোস্ট করে সরাসরি অভিযোগ করেন যে, তাঁর স্ত্রী তাঁর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। এই পোস্ট নিমেষের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। ক্ষুব্ধ মনিকা এরপর তাঁর সোশ্যাল হ্যান্ডেল থেকে গার্ডনারের সাথে কাটানো সমস্ত স্মৃতি মুছে ফেলেন, যা তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।
বিভিন্ন প্রতিবেদন থেকে আরও জানা গেছে যে, গার্ডনার ও মনিকা ভবিষ্যতের জন্য বড় পরিকল্পনা করেছিলেন। তাঁদের সংসারে নতুন অতিথি আনার জন্য তাঁরা একটি ফার্টিলিটি ক্লিনিকের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছিলেন। কিন্তু সম্পর্কের তিক্ততা সেই স্বপ্নকে ভেঙে চুরমার করে দেয়। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অ্যাশলে গার্ডনার ইতিমধ্যেই তাঁদের যৌথ বাসস্থান ছেড়ে অন্যত্র চলে গিয়েছেন এবং বিয়ের আংটি ছাড়া আর কিছুই সঙ্গে রাখেননি। বিচ্ছেদের এই সিদ্ধান্ত তাঁদের ব্যক্তিগত বিষয় হলেও, জাতীয় দলের দুই ক্রিকেটারের নাম জড়ানোয় তা অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটের অন্দরে অস্বস্তির জন্ম দিয়েছে। যদিও ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া কিংবা খোদ গার্ডনার বা জর্জিয়া ভল—কেউই এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত মুখ খোলেননি। ফলে বিষয়টি নিয়ে জল্পনা অব্যাহত রয়েছে।