অযোধ্যা অনুদান বিতর্কে ফের ভাইরাল নাসিরুদ্দিন-অনুপম দ্বন্দ্ব! অভিনেতা বললেন, “সবটাই পরিকল্পিত”

অযোধ্যা রাম মন্দিরের অনুদান চুরি সংক্রান্ত সাম্প্রতিক বিতর্ক ঘিরে যখন উত্তপ্ত দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ, ঠিক তখনই নেটদুনিয়ায় নতুন করে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এলেন অভিনেতা অনুপম খের। অযোধ্যা সফরের পর তাঁর করা একটি মন্তব্যের জেরে যেমন সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি, তেমনই নতুন করে ভাইরাল হয়েছে ছয় বছর আগে অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহের দেওয়া একটি সাক্ষাৎকার। সব মিলিয়ে অনুপম খেরের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত অবস্থান নিয়ে ফের নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

ঘটনার সূত্রপাত অনুপম খেরের রাম মন্দির সফরকে কেন্দ্র করে। মন্দিরে অনুদান চুরির ঘটনায় নিজের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি এমন কিছু মন্তব্য করেন যা রাজনৈতিক মহলে প্রবল সমালোচনার সৃষ্টি করে। সমাজবাদী পার্টির নেতারা সরাসরি তাঁকে নিশানা করেন। ঠিক এই সময়েই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ২০২০ সালের নাসিরুদ্দিন শাহের একটি ভিডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ে। সেই সাক্ষাৎকারে নাসিরুদ্দিন শাহ, অনুপম খেরকে সরাসরি ‘জোকার’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন। চলচ্চিত্র জগতের সেই শিল্পীদের নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল যাঁরা প্রকাশ্যে সরকারি সমর্থক, সেই প্রসঙ্গেই নাসিরুদ্দিন বলেছিলেন, অনুপম খেরকে খুব বেশি গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

পরিস্থিতি জটিল হতে দেখে ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিওবার্তা প্রকাশ করে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন অনুপম খের। তিনি জানিয়েছেন, অযোধ্যায় গিয়ে তিনি কেবল নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতির কথা ব্যক্ত করেছিলেন। তাঁর মতে, রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য তাঁর বক্তব্যকে বিকৃত করে একটি পরিকল্পিত আক্রমণ চালানো হচ্ছে। অনুপম আরও দাবি করেন যে, নাসিরুদ্দিন শাহের সঙ্গে তাঁর সাম্প্রতিককালে সাক্ষাৎ হয়েছে এবং সেখানে তাঁরা একে অপরকে আলিঙ্গনও করেছেন। তাঁদের মধ্যে ব্যক্তিগত কোনো শত্রুতা নেই বলেই দাবি করেন তিনি।

২০২০ সালের সেই পুরনো বিতর্ক প্রসঙ্গে অনুপম জানিয়েছেন, নাসিরুদ্দিন শাহ কেবল তাঁকে নন, বরং অতীতে দিলীপ কুমার, অমিতাভ বচ্চন, রাজেশ খান্না, শাহরুখ খান এবং বিরাট কোহলির মতো ব্যক্তিত্বদের নিয়েও কঠোর সমালোচনা করেছিলেন। ফলে নাসিরুদ্দিনের এই ধরণের মন্তব্য তাঁর কাছে নতুন কিছু নয়। তিনি নিজের পরিশ্রম ও নিষ্ঠার ওপর আস্থা রেখে সমালোচনার উর্ধ্বে থাকার পক্ষপাতী।

রাম মন্দিরের অনুদান সংক্রান্ত বিতর্ক এবং নাসিরুদ্দিন শাহের পুরনো মন্তব্যের এই সংযোগ বিনোদন ও রাজনৈতিক মহলে নতুন করে ধোঁয়াশা তৈরি করেছে। তবে অনুপম খেরের দাবি, বর্তমান বিতর্কের আবহেই অতীতের একটি পুরনো মন্তব্যকে পরিকল্পিতভাবে সামনে আনা হয়েছে শুধুমাত্র তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার জন্য। ব্যক্তিগত সম্পর্কে কোনো তিক্ততা নেই দাবি করলেও, এই ‘বাকযুদ্ধ’ যে এখন নেটপাড়ায় আলোচনার রসদ জোগাচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য।