বনদপ্তরের নিয়োগে নজিরবিহীন বদল! স্বচ্ছতার লক্ষ্যে পুলিশ বোর্ডের হাতে দায়িত্ব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী

রাজ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ফেরাতে এবং বিগত সরকারের আমলের দুর্নীতিমুক্ত কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিলেন মুখ্যমন্ত্রী। মঙ্গলবার সল্টলেকের বনবিতানে অরণ্য উৎসবের সূচনা করতে এসে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করলেন, এখন থেকে রাজ্য বনদপ্তরের সমস্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ড। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো প্রকার অস্বচ্ছতা বা দুর্নীতির অভিযোগ যেন আর না ওঠে, তা নিশ্চিত করতেই এই নজিরবিহীন পদক্ষেপ।

প্রসঙ্গত, বিগত তৃণমূল আমলে বনদপ্তরের নিয়োগ ঘিরে একাধিকবার দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছিল। বিশেষত, প্রাক্তন বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যকালে ‘বন সহায়’ পদে প্রায় দু’হাজার কর্মী নিয়োগে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এই অস্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে কলকাতা হাইকোর্ট পর্যন্ত হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হয়েছিল এবং পুনরায় ইন্টারভিউয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এই প্রেক্ষাপট মাথায় রেখেই মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, বনদপ্তরের নিয়োগ এখন থেকে আর আগের মতো হবে না। পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের মতো একটি স্বচ্ছ ও দক্ষ সংস্থার মাধ্যমে নিয়োগ সম্পন্ন হলে মেধার সঠিক মূল্যায়ন সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করছেন।

বনমন্ত্রী মনোজ ওরাওঁকে উদ্দেশ্য করে মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, বনদপ্তরের কর্মীরা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করেন, অথচ দীর্ঘকাল ধরে পর্যাপ্ত কর্মী ও পরিকাঠামোর অভাবে তাঁরা ধুঁকছেন। তিনি বনমন্ত্রীকে অবিলম্বে সমস্ত শূন্যপদ ও পরিকাঠামোগত অভাবের একটি তালিকা তৈরি করে মুখ্য সচিবের কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। শূন্যপদ পূরণের জন্য দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরুর প্রক্রিয়াও শুরু হবে।

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “বিগত তৃণমূল সরকার বন ও জঙ্গল ধ্বংস করার পাশাপাশি সবকিছুই বিক্রি করে দিয়ে গেছে। বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও ঝাড়গ্রামের মতো এলাকা, যেগুলি একসময় ‘অরণ্য সুন্দরী’ হিসেবে পরিচিত ছিল, বর্তমানে সেখানে বনভূমির অবস্থা শোচনীয়।” আকাশপথে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের জঙ্গল অধ্যুষিত এলাকাগুলির করুণ দশা তাঁকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। প্রাক্তন সরকারের বিরুদ্ধে লুটের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, অরণ্য সম্পদ ধ্বংস করে বিগত সরকার রাজ্যের পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি করেছে।

এই ধ্বংস হওয়া অরণ্য সম্পদ পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে মুখ্যমন্ত্রী অরণ্য সপ্তাহ উপলক্ষে রাজ্যে ৭ কোটি ৫০ লক্ষ গাছ লাগানোর উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। এই লক্ষ্যপূরণে তিনি প্রতিটি পঞ্চায়েত সদস্যকে ১ হাজারটি করে এবং বিধায়কদের ১ লক্ষটি করে গাছ লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর এই জোড়া পদক্ষেপ—অর্থাৎ স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি—রাজ্যে নতুন করে সুশাসন ও পরিবেশ সচেতনতার বার্তা বহন করছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। নিয়োগ দুর্নীতিমুক্ত হওয়ায় রাজ্যের চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যেও কিছুটা আশার আলো দেখা দিয়েছে।