ভিডিও বানালেই সোজা পকেটে ঢুকবে লাখ টাকা! সোশ্যাল মিডিয়া ক্রিয়েটরদের জন্য বাম্পার উপহার দিল রাজ্য সরকার

সোশ্যাল মিডিয়ার রিলস, শর্টস কিংবা ভিডিও তৈরির মাধ্যমেই আজকাল প্রজন্মের একটা বড় অংশের তরুণ-তরুণী নিজেদের ক্যারিয়ার ও উপার্জনের নতুন পথ তৈরি করে নিয়েছেন। এতদিন সোশ্যাল মিডিয়া ক্রিয়েটরদের মূল আয়ের উৎস ছিল বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের মনিটাইজেশন কিংবা ব্র্যান্ড স্পনসরশিপ। কিন্তু এবার কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আর্থিক উৎসাহ দিতে এক অভূতপূর্ব ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। সম্প্রতি এক গুরুত্বপূর্ণ ক্যাবিনেট বৈঠকে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সোশ্যাল মিডিয়া ও অনলাইন ক্রিয়েটরদের জন্য এক আকর্ষণীয় আর্থিক নীতি ও নতুন স্কিম চালু করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে এখন থেকে ঘরে বসেই নির্দিষ্ট সরকারি স্কিমের প্রচারমূলক ভিডিও বানিয়ে মাস গেলে মোটা অঙ্কের টাকা আয় করতে পারবেন ডিজিটাল ক্রিয়েটররা।
বুধবার রাজধানী পাটনায় মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীর সুনির্দিষ্ট নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য ক্যাবিনেট বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে মোট ১৩টি বড় প্রস্তাবনা পাশ করা হয়েছে। যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে এই নতুন ডিজিটাল মিডিয়া নীতি। সরকারের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বিহার সোশ্যাল মিডিয়া অ্যান্ড অনলাইন মিডিয়া রুলস ২০২৬-এ ব্যাপক সংশোধন এনে এই বিশেষ স্কিমটি কার্যকর করা হচ্ছে। নতুন এই নীতিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, যে সমস্ত সোশ্যাল মিডিয়া ক্রিয়েটর বা ইনফ্লুয়েন্সাররা রাজ্য সরকারের সঙ্গে এমপ্যানেল বা রেজিস্টার্ড থাকবেন, তারা যদি সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক স্কিম ও উন্নয়নমূলক কর্মসূচির ওপর আকর্ষণীয় ও তথ্যবহুল কনটেন্ট তৈরি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করেন, তবে তাদের বিশেষ আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রেজিস্টার্ড ক্রিয়েটরদের তৈরি কোনো নির্দিষ্ট ভিডিও যদি প্রতি ৩০ দিনের মধ্যে ১ লাখ বা তার বেশি ভিউ অর্জন করতে সক্ষম হয়, তবে ওই ভিডিওর জন্য সরকারের তরফ থেকে অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রণোদনা দেওয়া হবে। এমনকি কনটেন্টের মান, রিচ এবং প্রভাব বিচার করে কোনো একটি নির্দিষ্ট ব্যতিক্রমী ভিডিওর জন্য সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার বা পারিশ্রমিক পাওয়ার সুযোগ থাকছে। এই ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের স্বাধীন কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের মধ্যে চরম উদ্দীপনা ও উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বিহারের তথ্য ও জনসংযোগ বিভাগের পক্ষ থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, এই প্রকল্পের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে খুব শীঘ্রই একটি বিস্তারিত সরকারি নোটিফিকেশন জারি করা হবে। নিয়মাবলী চূড়ান্ত হওয়ার পর আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি দল সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল, পেজ এবং ইউটিউব চ্যানেলের নিয়মিত অডিটের মাধ্যমে ফলোয়ার্স সংখ্যা, এনগেজমেন্ট এবং রিচ যাচাই করবে। যারা সমস্ত শর্ত সফলভাবে পূরণ করবেন, তারা সরাসরি এই সরকারি অনুদানের সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। বেকারত্ব দূরীকরণ এবং ডিজিটাল মাধ্যমে সরকারি প্রচারের প্রসার ঘটাতে এই অভিনব পদক্ষেপ দেশের অন্যান্য রাজ্যের কাছেও এক নতুন নজির স্থাপন করতে চলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।