তেলের উর্ধ্বে বিচার! সহকর্মী ধর্ষণকাণ্ডে ১০ বছরের কারাদণ্ড চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দরজায় তরুণ তেজপাল

সহকর্মীকে ধর্ষণের মতো অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগে বম্বে হাইকোর্টের গোয়া বেঞ্চের দেওয়া ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে অবশেষে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হলেন ‘তহেলকা’ ম্যাগাজিনের প্রতিষ্ঠাতা তথা প্রাক্তন সম্পাদক তরুণ তেজপাল। সম্প্রতি বম্বে হাইকোর্টের পক্ষ থেকে তাঁকে আত্মসমর্পণের জন্য চার সপ্তাহের একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। তবে সেই আইনি মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ৬২ বছর বয়সি এই বর্ষীয়ান সাংবাদিক দেশের শীর্ষ আদালতে স্পেশাল লিভ পিটিশন দায়ের করে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত দোষী সাব্যস্ত করার নির্দেশকে খারিজ করার আবেদন জানিয়েছেন।

ঘটনার সূত্রপাত দীর্ঘ ১৩ বছর আগে, ২০১৩ সালের নভেম্বর মাসে। গোয়ায় ‘তহেলকা’ ম্যাগাজিনের উদ্যোগে আয়োজিত একটি হাই-প্রোফাইল উৎসব চলাকালীন একটি হোটেলের লিফটের ভেতরে এক জুনিয়র নারী সহকর্মীকে যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে তৎকালীন সম্পাদক তরুণ তেজপালের বিরুদ্ধে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর দেশজুড়ে চরম রাজনৈতিক ও সাংবাদিক মহলে শোরগোল পড়ে যায়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া এবং বিচারপর্ব চলার পর ২০২১ সালে গোয়ার একটি নিম্ন আদালত প্রমাণের যথেচ্ছ অভাব দেখিয়ে তরুণ তেজপালকে সমস্ত অভিযোগ থেকে বেকসুর খালাস দিয়েছিল।

কিন্তু নিম্ন আদালতের সেই রায়কে তীব্র আক্রমণ করে বোম্বে হাইকোর্ট জানায় যে ওই রায়টি সম্পূর্ণ ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ এবং ‘ভুল ধারণাভিত্তিক’ ছিল। হাইকোর্টের স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ ছিল, নিম্ন আদালত সম্পূর্ণ ভুলভাবে ধরে নিয়েছিল যে একজন নির্যাতিতাকে বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই ‘নিখুঁত শিকার’ বা ‘পারফেক্ট ভিক্টিম’-এর মতো আচরণ করতে হবে, যা বিচার ব্যবস্থার পরিপন্থী। গত ৬ অগস্ট বম্বে হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের খালাসের রায়টি সম্পূর্ণ খারিজ করে দেয় এবং তরুণ তেজপালকে অপরাধী সাব্যস্ত করে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি আদালত তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে জানায় যে, মামলার শুনানিপর্বে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা ওই নির্যাতিতাকে প্রায় ১ হাজার পৃষ্ঠার দীর্ঘ ও যন্ত্রণাদায়ক জেরার মুখোমুখি করিয়ে মানসিকভাবে চরম হেনস্থা করেছেন।

তবে এই হাই-প্রোফাইল মামলার আইনি লড়াই এখন এক নতুন ও জটিল মোড় নিয়েছে। একদিকে যেমন তরুণ তেজপাল তাঁর সাজা ও দোষী সাব্যস্ত হওয়ার বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছেন, অন্যদিকে গোয়া রাজ্য সরকারও পাল্টা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে সাজা আরও বাড়ানোর জোরালো দাবিতে। রাজ্য সরকারের মূল আইনি যুক্তি হলো, তরুণ তেজপালের এই ঘৃণ্য অপরাধের জন্য ১০ বছরের কারাদণ্ড অত্যন্ত লঘু এবং অপরাধের ভয়াবহতা বিবেচনা করে তাঁর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হওয়া উচিত। শুরু থেকেই নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ দ্ব্যর্থহীন ভাষায় অস্বীকার করে তরুণ তেজপাল দাবি করে আসছেন যে তিনি বৃহত্তর কোনো রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার। এখন গোটা দেশের নজর সুপ্রিম কোর্টের দিকে—সর্বোচ্চ আদালত বম্বে হাইকোর্টের এই রায়ে হস্তক্ষেপ করে কোনো আইনি স্বস্তি দেয়, নাকি গোয়া সরকারের কঠোরতম সাজার দাবিই বহাল রাখে।