রাজ্যে রেল পরিকাঠামোয় বড় ধাক্কা! খড়্গপুর-ভদ্রক চতুর্থ রেললাইন প্রকল্পে মিলল সবুজ সঙ্কেত

কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার এক সুদূরপ্রসারী ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশার মধ্যে রেল যোগাযোগকে আরও দ্রুত, মসৃণ ও আধুনিক করে তুলতে নতুন একটি মাল্টি-ট্র্যাকিং প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। খড়্গপুর থেকে ওড়িশার ভদ্রক বা রণিতাল পর্যন্ত ১৭৩ কিলোমিটার দীর্ঘ চতুর্থ রেললাইন তৈরির এই প্রকল্পে আনুষ্ঠানিকভাবে সবুজ সঙ্কেত দিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। পূর্ব ভারতের অন্যতম ব্যস্ততম রেলপথ হিসেবে পরিচিত এই খড়্গপুর শাখায় অতিরিক্ত একটি লাইন যুক্ত হওয়ার ফলে ট্রেন চলাচলের পরিধি বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে মাঝপথে সিগন্যাল না পেয়ে ট্রেন আটকে থাকার দীর্ঘদিনের পুরনো সমস্যা থেকে যাত্রীরা মুক্তি পাবেন এবং এক্সপ্রেস ও প্যাসেঞ্জার ট্রেনের সময়ানুবর্তিতা বা পাংচুয়ালিটি অনেকটাই উন্নত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ‘ক্যাবিনেট কমিটি অন ইকোনমিক অ্যাফেয়ার্স’ বা সিসিইএ (CCEA) রেল মন্ত্রকের প্রায় ৯,৪৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে মোট চারটি গুরুত্বপূর্ণ মাল্টি-ট্র্যাকিং প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে। এই সম্পূর্ণ প্রকল্পটির কাজ আগামী ২০৩০-৩১ অর্থবর্ষের মধ্যে সম্পন্ন করার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রশংসা করে কেন্দ্রীয় সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন রাজনৈতিক নেতৃত্ব। তাঁদের মতে, এই প্রকল্প শুধু যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্যই বৃদ্ধি করবে না, বরং পূর্ব উপকূলীয় রেল করিডরের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং শক্তিশালী অংশ হিসেবেও বিরাট ভূমিকা পালন করবে। সাধারণ যাত্রী থেকে শুরু করে বাণিজ্যমহল—সকলেই এই উন্নত পরিকাঠামোর সুফল পাবেন।

যাত্রী পরিবহণের পাশাপাশি পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রেও এই নতুন রেললাইনটি এক বিপ্লব আনতে চলেছে। নতুন এই রেললাইন চালু হলে কয়লা, ইস্পাত, লৌহ আকরিক, সিমেন্ট, সার, গাড়ি, কন্টেনার এবং বিভিন্ন খাদ্যশস্যের মতো জরুরি সামগ্রী অত্যন্ত কম সময়ে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। এর ফলে পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশার স্থানীয় ভারী শিল্প, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প বা এমএসএমই (MSME) এবং বিভিন্ন উপকূলীয় বন্দরগুলি ভীষণভাবে উপকৃত হবে। কাঁচামাল আমদানি এবং উৎপাদিত পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে যেমন সময় বাঁচবে, তেমনই কমবে পরিবহন খরচও। একই সঙ্গে রেলপথে পণ্যের জোগান বাড়লে জাতীয় সড়কগুলিতে ভারী লরি ও পণ্যবাহী ট্রাকের চাপ অনেকাংশে হ্রাস পাবে, যা পরিবেশবান্ধব এবং নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করবে। পরিকাঠামোর এই ব্যাপক সম্প্রসারণ কেবল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতিই ঘটায় না, বরং আঞ্চলিক অর্থনীতিতে নতুন গতি এনে কর্মসংস্থানের অবারিত সুযোগ তৈরি করে। সবমিলিয়ে, খড়্গপুর-ভদ্রক চতুর্থ রেললাইন প্রকল্পটি পূর্ব ভারতের শিল্প ও পরিবহণ জগতের মানচিত্রে এক নতুন যুগের সূচনা করতে চলেছে।