দু’বছর পর কি ফের চালু হচ্ছে মৈত্রী এক্সপ্রেস? জল্পনার মাঝেই বড় সুখবরের অপেক্ষায় ভারত-বাংলাদেশ!

দীর্ঘ দু’বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকার পর অবশেষে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে চলাচলকারী আন্তর্জাতিক যাত্রীবাহী ট্রেন ‘মৈত্রী এক্সপ্রেস’ পুনরায় চালুর জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দুই দেশের যাতায়াত ব্যবস্থাকে আরও সহজ ও সুগম করতে আগামী ৮ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর ঢাকার মাটিতে বসতে চলেছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। বাংলাদেশ ও ভারতের রেল কর্তাদের নিয়ে আয়োজিত এই ইন্টার-গভর্নমেন্টাল রেলওয়ে মিটিং বা IGRM বৈঠকেই বন্ধ থাকা এই আন্তঃদেশীয় ট্রেনগুলি পুনরায় চালু করার বিষয়ে চূড়ান্ত ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। বাংলাদেশ রেলওয়ের ডিরেক্টর জেনারেল মহম্মদ আফজাল হোসেন জানিয়েছেন, আসন্ন এই বৈঠকে দুই দেশের রেল যোগাযোগের পরিকাঠামো এবং সার্বিক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত ও ফলপ্রসূ আলোচনা করা হবে, যার মধ্যে মৈত্রী এক্সপ্রেস চালু করার বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে। দুই দেশের প্রতিনিধিরা যদি পারস্পরিক সম্মতিতে পৌঁছান, তবে এই বৈঠকেই ট্রেনটি পুনরায় চালুর সম্ভাব্য তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের ১৪ এপ্রিল ঢাকা-কলকাতা রুটে প্রথম যাত্রার সূচনা করেছিল মৈত্রী এক্সপ্রেস। কিন্তু ২০২০ সালে বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারির ভয়াবহ প্রকোপ শুরু হলে ট্রেনটির পরিষেবা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে ২০২২ সালের ২৯ মে ফের একবার এই আন্তঃদেশীয় ট্রেনটি চালু করা হয়েছিল, যা দুই দেশের যাত্রীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। প্রায় ৪৬৫ আসন বিশিষ্ট এই মৈত্রী এক্সপ্রেসে স্বাভাবিক সময়ে প্রতি ট্রিপে গড়ে প্রায় তিন শতাধিক যাত্রী নিয়মিত যাতায়াত করতেন। এমনকি বিভিন্ন সময় উৎসবের মরসুমে ট্রেনের সমস্ত আসন সম্পূর্ণ ভর্তি হওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়ও লক্ষ্য করা গিয়েছে।
তবে সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই থেকে পুনরায় মৈত্রী এক্সপ্রেসের চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমান পরিস্থিতিতে শুধু মৈত্রী এক্সপ্রেস একাই নয়, বরং ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষাকারী অপর দুটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃদেশীয় যাত্রীবাহী ট্রেন—বন্ধন এক্সপ্রেস এবং মিতালি এক্সপ্রেসও দীর্ঘদিন ধরে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এই ট্রেনগুলির পরিষেবা দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় দুই দেশের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে চিকিৎসা করাতে যাওয়া রোগী, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী এবং পর্যটকদের চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে। যাতায়াতের বিকল্প মাধ্যম হিসেবে তাঁদের বর্তমানে বাধ্য হয়েই ব্যয়বহুল বিমানপথ কিংবা দীর্ঘমেয়াদী সড়কপথের ওপর অতিরিক্ত মাত্রায় নির্ভর করতে হচ্ছে। ফলে রেল যোগাযোগ পুনরায় স্বাভাবিক হলে একদিকে যেমন যাতায়াত খরচ অনেকটাই হ্রাস পাবে, অন্যদিকে তেমনই দুই দেশের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের ক্ষেত্রেও এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।