“এমন স্বামী পেয়েও উনি জানেন না কী পেয়েছেন!” গোবিন্দের বিরুদ্ধে বিবাহবিচ্ছেদের গুঞ্জনের মাঝে বিস্ফোরক পুনম পাণ্ডে

বলিউড অভিনেতা গোবিন্দ এবং তাঁর স্ত্রী সুনীতা আহুজার দীর্ঘদিনের দাম্পত্য সম্পর্ক নিয়ে গত বেশ কিছুদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিনোদন দুনিয়ায় নানা গুঞ্জন ও জল্পনা তুঙ্গে উঠেছিল। জানা গিয়েছিল যে, সহকর্মী ও তরুণী অভিনেত্রী কোমল রানি স্বর্ণকারের সঙ্গে গোবিন্দের সম্পর্ক নিয়ে পরকীয়ার তীব্র অভিযোগ তুলেছিলেন স্ত্রী সুনীতা। এমনকি এই পারিবারিক টানাপোড়েনের জেরে সুনীতা নাকি অভিনেতার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে আদালতে বিচ্ছেদের মামলাও দায়ের করেছিলেন। প্রায় দু’বছর ধরে চলা এই বৈবাহিক জটিলতা নিয়ে যখন অনুরাগীদের মনে উৎকণ্ঠা চরমে, ঠিক তখনই গতকাল ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে সুনীতার আদালত চত্বরে উপস্থিতি নতুন করে বিচ্ছেদের গুঞ্জনকে উসকে দিয়েছিল। তবে সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে গোবিন্দের ম্যানেজার শশী সিন্হা সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, সুনীতা তাঁর স্বামীর ওপর থেকে সমস্ত আইনি বিচ্ছেদের মামলা তুলে নিয়েছেন এবং তাঁরা আপাতত একসঙ্গে শান্তিতে সংসার করারই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এই পারিবারিক ও পরকীয়া বিতর্কের মাঝে খোদ গোবিন্দের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী পুনম পাণ্ডে। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে পুনম অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, সুনীতা আহুজা অত্যন্ত সৌভাগ্যবতী যে তিনি গোবিন্দের মতো একজন ভালো মানুষকে স্বামী হিসেবে পেয়েছেন। পুনমের মতে, সুনীতা নিজেই হয়তো বুঝতে পারছেন না যে তিনি স্বামী হিসেবে কত বড় রত্ন পেয়েছেন। গোবিন্দের মতো একজন বর্ষীয়ান ও জনপ্রিয় সুপারস্টারকে নিয়ে এই ধরনের অপ্রীতিকর মন্তব্য করার তীব্র নিন্দা করে পুনম ১০০ শতাংশ গোবিন্দের পক্ষ নেন এবং সমালোচকদের একহাত নেন। পুনম আরও স্পষ্ট করে বলেন যে, গোবিন্দ বিমানববন্দরে কোনো অল্পবয়সী মেয়ের সঙ্গে লুকিয়ে চুরিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন না, বরং পেশাগত কাজের খাতিরেই তাঁদের একসঙ্গে দেখা গিয়েছে। এর মধ্যে লুকোচুরির কোনো অবকাশ নেই।
শুধু পুনম পাণ্ডে একা নন, এর আগে এই একই বিতর্কে গোবিন্দের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন সলমান খানের প্রাক্তন বান্ধবী তথা অভিনেত্রী সোমি আলিও। সুনীতার করা সমস্ত অভিযোগের তীব্র নিন্দা করে সোমি বলেন যে, গোবিন্দের মতো একজন অত্যন্ত প্রতিভাবান ও বিনয়ী অভিনেতার দীর্ঘদিনের বর্ণময় কেরিয়ার এবং পেশাদারিত্বের কথা মাথায় রেখেই এমন অসম্মানজনক কথা বলা অত্যন্ত অনুচিত। সোমি উল্লেখ করেন যে, গোবিন্দ বলিউডের অন্যতম সেরা ও বিনয়ী তারকা, তাই শুধুমাত্র বয়সের তারতম্য বা সহকর্মীর সঙ্গে কাজ করার সুবাদে কোনো শিল্পীর ব্যক্তিগত চরিত্র বা যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা সম্পূর্ণ অনৈতিক। সব মিলিয়ে, দাম্পত্যের টানাপোড়েন ও আইনি ঝামেলার মেঘ কাটিয়ে গোবিন্দ এবং সুনীতার সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করলেও, বলিউডের বিশিষ্ট তারকাদের এই প্রকাশ্য সমর্থন অভিনেতা গোবিন্দের ভাবমূর্তি রক্ষায় এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।