‘যারা একসময় গুন্ডামি করেছে, তারাই বিল আনছে!’ বিজেপিকে চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ কল্যাণের

আগামী ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসকে সামনে রেখে উত্তপ্ত বাংলার রাজনীতি। বর্ধমানে আয়োজিত এক প্রস্তুতি সভা থেকে রাজ্য সরকারের আনা ‘গুন্ডা দমন বিল’-এর তীব্র সমালোচনা করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের বর্ষীয়ান সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। একযোগে বিজেপি ও বর্তমান রাজ্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে তোপ দেগে তিনি দাবি করেন, “যারা একসময় নিজে গুন্ডামি করেছে, তারাই এখন গুন্ডা দমন বিল নিয়ে বড় বড় কথা বলছে।” তাঁর মতে, এটি এক ধরনের রাজনৈতিক পরিহাস ছাড়া আর কিছুই নয়।
আইনি লড়াইয়ে পাশে কল্যাণ:
এদিনের বর্ধমান জেলা তৃণমূলের বৈঠকে সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের পেশাগত জীবনের বড় এক সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, আগামী এক বছর তিনি অন্য কোনো কাজে সময় না দিয়ে মূলত তৃণমূল কর্মীদের আইনি সুরক্ষা দিতেই মনোনিবেশ করবেন। কল্যাণ বলেন, “ভোট-পরবর্তী সময়ে আমাদের প্রায় ১৪ হাজার কর্মীর নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। আমি কথা দিচ্ছি, এই লড়াইয়ে আমি দলের কর্মীদের পাশে থাকব এবং এক পয়সাও পারিশ্রমিক না নিয়ে তাঁদের হয়ে আদালতে লড়ব।”
বিজেপি ও উন্নয়ন প্রসঙ্গে তোপ:
সাংসদ শুধু বিলের সমালোচনা করেই থেমে থাকেননি, তুলে ধরেছেন বর্তমান সরকারের বিভিন্ন ব্যর্থতার দিক। তাঁর অভিযোগ, নির্মাণ কাজের জন্য প্রয়োজনীয় বালির দাম তৃণমূল জমানার তুলনায় বর্তমানে আকাশচুম্বী, যার জন্য বর্তমান শাসকদলই দায়ী। পাশাপাশি, বর্ধমান-পূর্বের সাংসদ শর্মিলা সরকারকে নিশানা করে তিনি বলেন, শুধুমাত্র সংসদের অধিবেশনে উপস্থিত থাকলেই জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব শেষ হয় না। মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত রাজনীতিকের পরিচয়, যা বর্তমান সময়ে অভাব দেখা যাচ্ছে।
২১ জুলাই ও আদালতের রায়:
২১ জুলাইয়ের সমাবেশ কোথায় হবে, তা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা চলছে। এই বিষয়ে তৃণমূলের অবস্থান স্পষ্ট করলেন কল্যাণ। তিনি সাফ জানান, আদালত যে জায়গায় সভা করার অনুমতি দেবে, দল সেখানেই কর্মসূচি পালন করবে। আইনের প্রতি তৃণমূল কংগ্রেসের পূর্ণ শ্রদ্ধা রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বর্ধমান জেলা তৃণমূল কার্যালয়ে আয়োজিত এই প্রস্তুতি সভায় সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ, সাংসদ কীর্তি আজাদ এবং জেলার শীর্ষ নেতৃত্ব। কলকাতার শহিদ দিবসের মঞ্চকে সফল করতে পূর্ব বর্ধমান থেকে রেকর্ড সংখ্যক কর্মী-সমর্থকদের সমাগম নিশ্চিত করতে এদিন সাংগঠনিক প্রস্তুতি ও কর্মসূচির রূপরেখা চূড়ান্ত করা হয়েছে। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আক্রমণাত্মক অবস্থান এবং কর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা যে আসন্ন ২১ জুলাইয়ের সমাবেশের গুরুত্ব কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।