রাজ্যের অসহযোগিতায় হাইকোর্টের বিচারপতিরাও হতাশ, মুখ্যসচিবকে তলব করে কঠোর বার্তা

জেলা ও নিম্ন আদালতগুলোর পরিকাঠামো তৈরিতে রাজ্য সরকারের অসহযোগিতা নিয়ে এবার কলকাতা হাইকোর্ট ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। বিচারপতি দেবাংশু বসাক এবং বিচারপতি মহম্মদ শব্বর রশিদির ডিভিশন বেঞ্চ ভার্চুয়াল শুনানিতে মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে কঠোরভাবে ভর্ৎসনা করে।

টাকার অভাবে থমকে উন্নয়ন

বিচারপতি দেবাংশু বসাক প্রশ্ন তোলেন, “হাইকোর্টে বিচারপতিদের চেম্বারে সিসিটিভি বসানোর জন্য আবেদন করা হলেও কেন টাকা দেওয়া হয়নি? গত বছরের ডিসেম্বরে নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও কেন তা কার্যকর করা হয়নি?” আদালত জানায়, প্রায় ১৭.৪১ কোটি টাকার হিসাব রাজ্যের কাছে জমা দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তার কোনো সুরাহা হয়নি।

বিচারপতি আরও বলেন, “জেলা জজদের সারা বছরের খরচের জন্য যে টাকা বরাদ্দ করার কথা, তা বহু জেলা এখনও পায়নি। পেপারলেস অর্থাৎ কাগজবিহীন অবস্থায় চলছে হাইকোর্ট। এটা চলতে পারে না।”

মুখ্যসচিবের আশ্বাস ও আদালতের কড়া নির্দেশ

শুনানিতে মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ জানান, তিনি এই বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে সাত দিনের মধ্যে জবাব দেবেন। তিনি জানান, ১০ কোটি টাকা আজই দেওয়া হচ্ছে এবং বাকিটা পরে দেওয়া হবে।

তবে আদালত এই উত্তরে সন্তুষ্ট হয়নি। বিচারপতি বলেন, “এটা শুধু ১০ বা ১৭ কোটির ব্যাপার নয়। কত টাকা রাজ্যের কাছে পাওয়ার জন্য রিকুইজিশন দেওয়া হয়েছে? নীচের তলায় হেলথ সেন্টার তৈরির জন্য কবে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল?”

হাইকোর্টের আইনজীবী জানান, ৫৫টি প্রকল্প এখনও আটকে আছে, যার মধ্যে ভবন নির্মাণও রয়েছে। বারবার তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও রাজ্য কোনো সাড়া দিচ্ছে না। বিচারপতি পরিশেষে কটাক্ষ করে বলেন, “কোনো আইনজীবী এখন অসুস্থ হবেন না, কারণ আপাতত কোনো হেলথ সেন্টার নেই।”

আদালত ১৭ সেপ্টেম্বর বেলা ৩টের মধ্যে সব প্রশ্নের জবাবসহ একটি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা দিতে মুখ্যসচিবকে নির্দেশ দিয়েছে। এই ঘটনা রাজ্য প্রশাসন এবং বিচার বিভাগের মধ্যে তীব্র টানাপোড়েনকে তুলে ধরেছে।