জেল ভেঙে পালাল ১৫ হাজার কয়েদি, নেপালে চরম অস্থিরতা, সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করল ভারত

গৌতম বুদ্ধের দেশ নেপালে এখন তীব্র রাজনৈতিক অস্থিরতা ও গণবিক্ষোভ চলছে। এই অরাজক পরিস্থিতির সুযোগে দেশটির ২৫টিরও বেশি জেল থেকে প্রায় ১৫ হাজার কয়েদি পালিয়ে গেছে। এই ঘটনা ভারতে উদ্বেগ বাড়িয়েছে, কারণ দুই দেশের সীমান্ত খোলা এবং সহজে পারাপার করা যায়।
সীমান্তে নজরদারি
নেপালের অস্থিরতার কারণে জেল থেকে পালানো বন্দিরা ভারতে ঢোকার চেষ্টা করছে। এর মধ্যে ৬০ জনকে ইতিমধ্যেই সীমান্তে আটক করেছে ভারতীয় সশস্ত্র সীমা বল (SSB)। এই ঘটনার পর ভারত-নেপাল সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হয়েছে, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে থাকা ১০০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায়।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ
নেপালের এই গণবিক্ষোভ মূলত দুর্নীতির বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। বিক্ষোভকারীরা একাধিক মন্ত্রী ও মেয়রের বাড়ি ও অফিসে আগুন দিয়েছে। প্রাক্তন জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন মন্ত্রী রাজকুমার গুপ্তার বিশাল বাড়িটিও পুড়িয়ে ছাই করে দেওয়া হয়েছে। যুব প্রজন্ম এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিয়েছে।
নেপালের পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা
নেপালের এই পরিস্থিতি দেখে পশ্চিমবঙ্গের চাকরিপ্রার্থীরাও সরব হয়েছেন। এক টেট চাকরিপ্রার্থী মুখ্যমন্ত্রীকে বলেন, “নেপাল থেকে শিক্ষা নিন। ৫০ হাজার নিয়োগ দিন। যুবসমাজ রেগে গেলে আপনি কিন্তু রাজ্যকে আর বাঁচাতে পারবেন না।”
অন্যদিকে, নেপালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি এবং নেপালের বিদ্যুৎ বোর্ডের প্রাক্তন এমডি কুল মান ঘিসিং-এর নাম প্রধান আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। দেশটির সেনাবাহিনী, বিক্ষোভকারীরা এবং রাষ্ট্রপতি ভবন যৌথভাবে অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী বাছাই করার জন্য আলোচনা করছে।