রাজ্যসভা নির্বাচনে নজিরবিহীন সমীকরণ! তৃণমূল ত্যাগীদের নিয়ে বিজেপির মাস্টারস্ট্রোক, জয় নিশ্চিত সুস্মিতা-সুখেন্দুদের

রাজনীতির ময়দানে নতুন সমীকরণ। তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া তিন হেভিওয়েট নেতা—সুস্মিতা দেব, সুখেন্দু শেখর রায় ও প্রকাশ চিক বড়াইক সোমবার রাজ্যসভা নির্বাচনের জন্য নিজেদের মনোনয়ন পেশ করলেন। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের হাত থেকে পদ্ম পতাকা তুলে নেওয়ার পরই তাঁদের এই মনোনয়ন পেশ রাজ্য রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

জয়ের অঙ্কে বিজেপিই এগিয়ে
বিধানসভার বর্তমান বিধায়ক সংখ্যার হিসেবে রাজ্যসভায় জয়ের জন্য একজন প্রার্থীর প্রয়োজন ১৪৭টি ভোট। বিজেপির একারই ২০৭ জন বিধায়ক রয়েছেন, ফলে তাদের বর্তমান অবস্থান অত্যন্ত সুবিধাজনক। অন্যদিকে, তৃণমূল, কংগ্রেস, আইএসএফ ও সিপিএম জোটবদ্ধ হলেও ১৪৭-এর গাণিতিক লক্ষ্যমাত্রা স্পর্শ করা তাদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব। তাই এই তিন প্রার্থীর জয় এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা মাত্র।

মনোনয়ন ও নির্বাচন প্রক্রিয়া
সোমবার মনোনয়ন পেশের সময় উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, মঙ্গলবার মনোনয়ন পত্র পরীক্ষা করা হবে এবং আগামী ১৭ তারিখ বিকেল ৩টে পর্যন্ত তা প্রত্যাহারের সময়সীমা রয়েছে। এরপরই জয়ী প্রার্থীদের হাতে শংসাপত্র তুলে দেবেন বিধানসভার সচিব তথা এই নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার সৌমেন্দ্রনাথ দাস।

দলবদলের রাজনীতি ও শমীক ভট্টাচার্যের অবস্থান
বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য অতীতে মন্তব্য করেছিলেন যে তৃণমূল কর্মীদের বিজেপিতে জায়গা হবে না। কিন্তু পরে তিনি অবস্থান বদল করে জানিয়েছিলেন, “ভালো তৃণমূল কর্মীদের জন্য বিজেপির দরজা খোলা।” বিশেষ করে যাঁরা দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত নন, তাঁদের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছিল গেরুয়া শিবির। সেই সূত্র ধরেই এই তিন তৃণমূল ত্যাগীকে নিজেদের দলে যোগদান করানোর পর তাঁদের রাজ্যসভার প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়ে একরকম বড় রাজনৈতিক চমকই দিল বিজেপি।

রাজ্যসভার এই নির্বাচন ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক উত্তাপ এখন তুঙ্গে, কারণ তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দেওয়া নেতাদের এভাবে প্রার্থী করার সিদ্ধান্তকে ঘিরে শুরু হয়েছে শাসক ও বিরোধী শিবিরের নতুন বাগযুদ্ধ।