রাঁচিতে গণপিটুনিতে খুন বিজেপি নেতার ভাগ্নে! শ্লীলতাহানির অভিযোগ নাকি জমি নিয়ে পুরনো শত্রুতা?

ঝাড়খণ্ডের রাজধানী রাঁচির রতু থানা এলাকার লাহনা গ্রামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নিহত যুবকের নাম রোহিত মিরধা (২৫), যিনি বিজেপির তফসিলি জাতি ফ্রন্টের রাজ্য সহ-সভাপতি কমলেশ রামের ভাগ্নে। শ্লীলতাহানির অভিযোগ তুলে একদল উত্তেজিত গ্রামবাসী তাঁকে পিটিয়ে হত্যা করে বলে অভিযোগ। ঘটনার পর থেকে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সন্ধ্যায় এক মহিলার সঙ্গে শ্লীলতাহানি ও অশ্লীল আচরণের অভিযোগে গ্রামবাসীদের একটি দল রোহিতকে ঘিরে ফেলে। এরপর তাকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় রোহিতকে তার পরিবার দ্রুত রাতু কমিউনিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যায়। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। নিহতের বাবা উদিত মিরধা জানান, বুধবার সন্ধ্যায় ফোন করে খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখেন, রোহিত মাটিতে অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে এবং জনতা তাকে মারধর করছে।

এই ঘটনায় নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে রতু থানায় ইন্দ্রজিৎ সাহু, সন্তোষ সাহু এবং আরও ১০ থেকে ১৫ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ইতিমধ্যে পুলিশ মূল অভিযুক্ত ইন্দ্রজিৎ সাহুকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশের দাবি, ঘটনার প্রতিটি দিক খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে এবং অন্য অভিযুক্তদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।

তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিজেপি নেতা তথা নিহতের মামা কমলেশ রামের অভিযোগ, এই খুনের পেছনে রয়েছে জমি সংক্রান্ত পুরনো বিরোধ। তিনি দাবি করেছেন, এটি কোনো শ্লীলতাহানির ঘটনা নয়, বরং একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তাঁর অভিযোগ, অভিযুক্তরা অতীতেও পরিবারটির ওপর চড়াও হয়েছিল এবং এ নিয়ে এসসি/এসটি থানায় অভিযোগও দায়ের করা হয়েছিল।

অন্যদিকে, গ্রামের একাংশের দাবি, রোহিত এক মহিলাকে হয়রানি ও অশ্লীল কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিল, আর সেই ক্ষোভ থেকেই গ্রামবাসী আইন নিজের হাতে তুলে নেয়। এই দ্বিমুখী দাবির ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে। অশান্তি এড়াতে লাহনা গ্রামে পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। কে প্রকৃত দোষী আর এই খুনের নেপথ্যে আসল কারণ কী, তা এখন তদন্তসাপেক্ষ।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy