হিন্দি চলচ্চিত্র জগতের এক বর্ণময় অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটল। ৭৬ বছর বয়সে না ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন প্রখ্যাত চলচ্চিত্র প্রযোজক এবং সেন্ট্রাল বোর্ড অফ ফিল্ম সার্টিফিকেশন (CBFC)-এর প্রাক্তন চেয়ারম্যান পহলাজ নিহালানি। দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন তিনি। মুম্বাইয়ের নানাবতী হাসপাতালে দীর্ঘ চিকিৎসার পর কিছুদিন আগেই তাঁকে বাড়ি ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত নিজের বাসভবনেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। আজ, ৪ঠা জুন, বিকেল ৩টায় সান্তাক্রুজ হিন্দু শ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।
বলিউডের বাণিজ্যিক ধারার সিনেমায় পহলাজ নিহালানি এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। আশির ও নব্বইয়ের দশকে যখন বক্স অফিসের সমীকরণ বুঝতে হিমশিম খাচ্ছিলেন নির্মাতারা, তখন তিনি একের পর এক হিট ছবি উপহার দিয়ে দর্শকদের মন জয় করেছিলেন। ‘ইলজাম’, ‘আগ হি আগ’ এবং ‘শোলা অউর শবনম’-এর মতো ছবি তাঁর প্রযোজনা সংস্থার ব্যানারে মুক্তি পেয়েছিল। বিশেষ করে ১৯৯৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত গোবিন্দা ও চাঙ্কি পান্ডে অভিনীত ‘আঁখে’ ছবিটি সেই সময় বক্স অফিসের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে দিয়েছিল। গোবিন্দার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া ছবিগুলোর নেপথ্যে ছিলেন পহলাজ নিহালানি। ১৯৮৬ সালে ‘লাভ ৮৬’ ছবির মাধ্যমে গোবিন্দাকে প্রথম সুযোগ দিলেও, ‘ইলজাম’ ছবির মাধ্যমেই তাঁকে সুপারস্টার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন তিনি।
তবে কেবল প্রযোজক হিসেবে নয়, পহলাজ নিহালানি সংবাদ শিরোনামে ছিলেন তাঁর সেন্সর বোর্ডের চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়েও। ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত সিবিএফসি প্রধান হিসেবে তাঁর কার্যকাল ছিল অত্যন্ত বিতর্কিত। শহীদ কাপুরের ‘উড়তা পাঞ্জাব’, ‘লিপস্টিক আন্ডার মাই বুরখা’ কিংবা জেমস বন্ডের ‘স্পেকটার’-এর মতো সিনেমার দৃশ্য ছাঁটাই নিয়ে পরিচালক ও প্রযোজকদের সঙ্গে তাঁর মতবিরোধের কথা আজও আলোচিত হয়। কঠোর সেন্সরশিপ প্রয়োগের কারণে অনেক সময় তিনি চলচ্চিত্র নির্মাতাদের রোষানলেও পড়েছিলেন। এছাড়াও প্রায় ৩০ বছর ধরে তিনি ‘অ্যাসোসিয়েশন অফ মোশন পিকচার অ্যান্ড টিভি প্রোগ্রাম প্রোডিউসার্স’-এর সভাপতি হিসেবে চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন প্রযোজকদের স্বার্থ রক্ষার কাজ করেছেন।
ব্যক্তিগত জীবনেও অনেক প্রতিকূলতার মোকাবিলা করেছেন তিনি। কয়েক বছর আগে গুরুতর খাদ্য বিষক্রিয়ার কারণে তাঁর শরীর মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। সেই সময় রক্তবমির মতো শারীরিক জটিলতা নিয়ে তাঁকে বেশ কয়েকদিন আইসিইউতে থাকতে হয়েছিল। সেই দুঃসময়ের কথা স্মরণ করে তিনি বলেছিলেন, বিনোদনের দুনিয়ার অসংখ্য বন্ধুর ভিড়ে একমাত্র শত্রুঘ্ন সিনহাই তাঁর খোঁজ নিয়েছিলেন। পহলাজ নিহালানির মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে সমগ্র চলচ্চিত্র জগতে। বলিউডের একটি স্বর্ণযুগের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিলেন তিনি। তাঁর প্রয়াণে হিন্দি সিনেমা হারাল একজন অভিভাবক এবং সাহসী এক প্রযোজককে।





