মোবাইল লোন নিয়ে বিপাকে? ব্যাঙ্কের দাদাগিরি শেষ, এবার থেকে মানতে হবে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের এই নিয়ম

ইএমআই বা কিস্তিতে স্মার্টফোন কেনা আজকের দিনে অত্যন্ত সাধারণ একটি বিষয়। কিন্তু ঋণ শোধে সামান্য বিলম্ব হলেই ফোন বা তার বিভিন্ন ফিচার বন্ধ করে দেওয়ার খবরের জেরে বহু গ্রাহক মানসিক হেনস্থার শিকার হতেন। এতদিন এই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো নিয়ন্ত্রণ না থাকায় ঋণদাতা সংস্থাগুলি ইচ্ছামতো পদক্ষেপ করত। তবে এবার সাধারণ মানুষের অধিকার ও গোপনীয়তা রক্ষায় এক কঠোর ও যুগান্তকারী নির্দেশিকা জারি করল ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI)। আগামী বছরের জানুয়ারি মাস থেকেই কার্যকর হতে চলেছে এই নতুন নিয়ন্ত্রক কাঠামো।
রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, ব্যাঙ্ক বা ঋণদাতা সংস্থাগুলি এখন থেকে আর নিজেদের ইচ্ছেমতো যেকোনো সময় ডিভাইস লক করতে পারবে না। রিকভারি এজেন্টদের আক্রমণাত্মক আচরণ এবং চটজলদি ফোন ব্লক করার প্রবণতা রোধ করতেই এই পদক্ষেপ। তবে কি ঋণদাতাদের কোনো অধিকার থাকবে না? কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক স্পষ্ট জানিয়েছে, ঋণ যদি নির্দিষ্টভাবে ওই ডিভাইস কেনার জন্যই নেওয়া হয়ে থাকে, তবেই প্রযুক্তির মাধ্যমে ফোনের কিছু ফিচার সীমিত করা সম্ভব। তবে এর জন্য মানতে হবে অত্যন্ত কঠোর কিছু শর্ত।
নতুন নিয়মে স্পষ্ট বলা হয়েছে, লোন এগ্রিমেন্ট বা ঋণচুক্তিতে পরিষ্কার উল্লেখ থাকতে হবে যে কোন পরিস্থিতিতে ফোনে বিধিনিষেধ আরোপ করা যেতে পারে। গ্রাহককে বাধ্যতামূলকভাবে আগাম নোটিস দিতে হবে। বিশেষ নিয়ম অনুযায়ী, কিস্তি বকেয়া হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে কোনোভাবেই ফোনে বিধিনিষেধ বা ব্লক করা যাবে না। টানা ৬০ দিন কিস্তি বকেয়া থাকার পরই কেবল আউটগোয়িং কল ব্লক করার মতো সম্পূর্ণ পদক্ষেপ করা যাবে। তবে ইনকামিং কল, এসএমএস এবং জরুরি এসওএস (SOS) পরিষেবার মতো অত্যন্ত জরুরি ফিচারগুলি কোনোভাবেই বন্ধ করা যাবে না। পাশাপাশি ব্যবহারকারীর জীবিকা বা চাকরির সঙ্গে যুক্ত কোনো জরুরি পরিষেবাও বন্ধ রাখার অনুমতি নেই।
গ্রাহক বকেয়া টাকা মিটিয়ে দেওয়ার মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর ফোন পুনরায় সচল করতে হবে। যদি ব্যাঙ্কের গাফিলতিতে পরিষেবা চালু করতে দেরি হয়, তবে প্রতি ঘণ্টার জন্য ২৫০ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এছাড়া গোপনীয়তার দিকটি মাথায় রেখে ব্যাঙ্ক বা কোনো থার্ড-পার্টি প্রযুক্তি সংস্থা গ্রাহকের ছবি, মেসেজ, কল লগ বা লোকেশন হিস্ট্রি কোনোভাবেই অ্যাক্সেস করতে পারবে না।