‘আরও ৮০ লক্ষ চাই!’ যাওয়ার আগে হুমকি দিয়ে গেল মুখোশধারী ডাকাতরা, চাঞ্চল্য থানেসারে

হরিয়ানার থানেসারে এক প্রবীণ আইনজীবী ও তাঁর স্ত্রীর উপর চড়াও হয়ে মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে কোটি টাকারও বেশি সম্পত্তি লুটের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠল। মুখোশ পরা চার দুষ্কৃতীর এই তাণ্ডবে গোটা এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সর্বমোট ৩ কোটি ১৫ লক্ষ টাকা নগদ, প্রচুর সোনা-রুপো ও একটি রিভলভার লুঠ করে চম্পট দিয়েছে ডাকাত দল। যাওয়ার সময় তারা হুমকি দিয়ে গিয়েছে যে, তাদের আরও ৮০ লক্ষ টাকা চাই এবং সেই টাকা নিতে তারা ফের আসবে।

ঠিক কী ঘটেছিল?

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এই ঘটনাটি ঘটে। প্রবীণ আইনজীবী বলবন্ত সিং ওয়ালিয়া থানেসার সিটি থানায় যে অভিযোগ দায়ের করেছেন, তাতে তিনি জানিয়েছেন— রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ তিনি পোষ্য কুকুরকে নিয়ে হাঁটতে বেরিয়েছিলেন এবং রাত ১০টা নাগাদ বাড়ি ফেরেন। বাড়িতে ঢুকেই তিনি দেখেন গোটা ঘর তছনছ হয়ে রয়েছে এবং জিনিসপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে।

দ্রুত শোওয়ার ঘরে গিয়ে তিনি দেখেন, তাঁর স্ত্রীর হাত-পা দড়ি দিয়ে শক্ত করে বাঁধা এবং মুখে টেপ লাগানো অবস্থায় বিছানায় উপুড় হয়ে পড়ে রয়েছেন। বলবন্ত ঘরে প্রবেশ করতেই লুকিয়ে থাকা দুষ্কৃতীরা বেরিয়ে এসে তাঁকেও কাবু করে ফেলে এবং একইভাবে তাঁরও হাত-পা বেঁধে দেয়। এর পর মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে শুরু হয় অবাধ লুটপাট।

ডিজিটাল সেফ খুলে লুঠ ও আগের ঘটনার যোগ

আইনজীবী বলবন্ত সিংয়ের দাবি, এর আগে গত ২০ মার্চও তাঁর বাড়িতে একটি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছিল, যে সেবার ৫০ লক্ষ টাকা লুঠ করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার আসা ডাকাত দল তাঁকে জানায় যে, আগের বার তারা ডিজিটাল লকার বা সেফ খুলতে পারেনি, তাই এ বার সেই লকারই খুলতে এসেছে। প্রাণের ভয়ে বলবন্ত লকার খুলে দিতে বাধ্য হন।

লকার থেকে ১৭ থেকে ২০ লক্ষ টাকা নগদ, দেড় থেকে দুই কেজি সোনার গয়না, চার কেজি রুপো এবং একটি দামি বিগ্রহ লুঠ করা হয়। পালানোর সময় প্রমাণ লোপাট করতে বাড়ির সমস্ত সিসিটিভি ক্যামেরা ও ডিভিআর (DVR) ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। যাওয়ার আগে তারা হুমকি দিয়ে যায় যে, পুলিশের কাছে গেলে প্রাণনাশ করা হবে এবং তাদের আরও ৮০ লক্ষ টাকা দিতে হবে, সেই টাকা নিতে তারা আবার আসবে।

পুলিশের তদন্ত শুরু

থানেসার সিটি থানার স্টেশন হাউস অফিসার (SHO) দেবেন্দ্র সিং জানিয়েছেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পরই পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। শহরের আশেপাশের বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করার জোর চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি, আইনজীবী ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে তাঁর বাড়ির সামনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বারবার একই বাড়িতে এ ধরনের দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা ও এলাকার আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।