আবাস যোজনার তালিকা খুঁজতে গিয়েই ফাঁস আসল সত্য! পূর্ব বর্ধমানে সরকারি নথির পাহাড় উদ্ধারে হুলুস্থুল কাণ্ড

পশ্চিম বর্ধমানের পর এবার পূর্ব বর্ধমান জেলার কালনা ২ নম্বর ব্লকের বড় ধামাস গ্রামে এক চাঞ্চল্যকর ও নজিরবিহীন ঘটনায় চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষ সরকারি পরিষেবা থেকে বঞ্চিত থাকার অভিযোগ তুলছিলেন। এবার খোদ পঞ্চায়েত অফিস থেকে উদ্ধার হলো বিপুল পরিমাণ এসসি-এসটি সার্টিফিকেট, ডিজিটাল রেশন কার্ড, ভোটার পরিচয়পত্র এবং জব কার্ডের স্তূপ। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, সম্প্রতি আবাস যোজনা প্রকল্পের উপভোক্তাদের একটি তালিকা খতিয়ে দেখতে গিয়ে কয়েকজন গ্রামবাসীর নজরে আসে পঞ্চায়েত ভবনের একটি বন্ধ ঘরের ভেতর থরে থরে সাজানো রয়েছে বিভিন্ন সরকারি নথিপত্র ও কার্ড। মুহূর্তের মধ্যে এই খবর চাউর হতেই আশপাশের গ্রাম থেকে শত শত মানুষ পঞ্চায়েত অফিসে ভিড় জমান এবং বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হলে তৎক্ষণাৎ খবর দেওয়া হয় স্থানীয় থানায়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং সংশ্লিষ্ট ঘরটি সিল করে দেয়।
এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল, বহু গরিব মানুষ ১৫ বছর বা তারও বেশি সময় ধরে তাঁদের প্রাপ্য সরকারি পরিষেবা ও অনুদান থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। তাঁদের আশঙ্কা, দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সেই সমস্ত সরকারি কার্ড ও পরিচয়পত্রই এই ভাণ্ডারে বছরের পর বছর ধরে ফেলে রাখা হয়েছিল। সাধারণ মানুষের ক্ষোভ, পঞ্চায়েতের ভেতরে চলা ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির ফলেই প্রকৃত উপভোক্তাদের হাতে এই গুরুত্বপূর্ণ নথিগুলি পৌঁছায়নি। এই ঘটনার পিছনে বড় কোনো অসৎ উদ্দেশ্য বা দুর্নীতি লুকিয়ে রয়েছে বলে দাবি করে এলাকাবাসীরা নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্তের জোরালো দাবি তুলেছেন।
অন্যদিকে, জনগণের তীব্র চাপের মুখে পড়ে এবং চরম বিপাকে পড়ে তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধান মুনমুন বাগ এক অদ্ভুত ও বিস্ফোরক সাফাই দিয়েছেন। তিনি গণমাধ্যমের সামনে স্বীকার করেছেন যে, তিনি পদাধিকার অনুযায়ী প্রধান হলেও প্রশাসনিক বা দাপ্তরিক কোনো সিদ্ধান্তই তাঁর নিজের ইচ্ছায় বা হাতে ছিল না। নিজেকে একজন সাধারণ গৃহবধূ হিসেবে দাবি করে তিনি বলেন, “আমাকে ভোটে দাঁড় করিয়ে প্রধান করা হয়েছিল। সেই মতো আমার প্রশাসনিক কোনো বিশেষ জ্ঞান বা অভিজ্ঞতা নেই। রাজনৈতিক নেতাদের নির্দেশেই পঞ্চায়েত অফিস পরিচালিত হতো।” তিনি সরাসরি কালনা ২ নম্বর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি প্রণব রায়ের দিকে আঙুল তুলে অভিযোগ করেছেন যে, সমস্ত সিদ্ধান্ত এবং নির্দেশ তাঁর মাধ্যমেই আসত। প্রধানের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন ও চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তির পর রাজনৈতিক মহলেও প্রবল শোরগোল শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলো এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসকদলকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে। পুলিশ এখন পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং উদ্ধার হওয়া নথিগুলির উৎস ও তার সঠিক গন্তব্য নির্ধারণের জন্য তদন্ত শুরু করেছে।