‘কাকরোচ জনতা পার্টি’র কাছে কেন মার খেল কংগ্রেস? তরুণ প্রজন্মের শক্তি মেনে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য শশী থারুরের!

কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুরের সাম্প্রতিক এক মন্তব্য ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গেছে। শুক্রবার মুম্বাইয়ে ‘ইন্ডियाজ ইন্টারন্যাশনাল মুভমেন্ট টু ইউনাইট নেশনস’ (IIMUN)-এর ১৫তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ছাত্র আন্দোলন নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন। শশী থারুর অকপটে স্বীকার করে নেন যে, हाल ਹੀতে সাড়া ফেলা ‘কাকরোচ জনতা পার্টি’ (CJP) বা সিজেপি-র আন্দোলন সাধারণ মানুষের মনে যতটা গভীর রেখাপাত করতে পেরেছে, তাঁদের নিজেদের দল কংগ্রেসের ছাত্র সংযোগ কর্মসূচি ‘ছাত্রों की गूंज’ সেই তুলনায় ততটা ব্যাপক সাফল্য বা জোরালো সাড়া অর্জন করতে পারেনি।

তিনি জানান, সিজেপি জंतर-মন্তরে যে সমস্ত জ্বলন্ত ও জনমুখী ইস্যুগুলো তুলে ধরেছিল, তার বহু আগেই কংগ্রেস একই ধরনের দাবিদাওয়া নিয়ে মাঠে নেমেছিল। কংগ্রেসের সেই বিশেষ কর্মসূচিতে খোদ রাহুল গান্ধী সরাসরি যুবসমাজ ও ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে দেশের আলোচিত পেপার লিক বা প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো গুরুতর সংকটের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিলেন। তা সত্ত্বেও তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের ক্ষেত্রে তাঁদের ঠিক কোথায় ঘাটতি থেকে গেল, তা নিয়ে আত্মসমালোচনা করার সময় এসে গেছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় প্রশ্ন তোলেন যে, তবে কি তাঁরা সাধারণ মানুষের মূল কথাগুলো সঠিকভাবে শুনতে ব্যর্থ হয়েছেন? কিংবা আজকের আধুনিক যুগের ‘জেন-জি’ (Gen Z) প্রজন্মের আসল নাড়ির স্পন্দন বুঝতে তাঁরা পুরোপুরি অক্ষম হয়েছেন?

উল্লেখ্য, গত ২০ জুন থেকে সিজেপি দেশজুড়ে বহুল আলোচিত NEET-UG ২০২৬ পেপার লিক কাণ্ডের প্রতিবাদে তুমুল আন্দোলন শুরু করে। কেন্দ্রীয় সরকারের স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তারা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের জোরালো দাবি তোলে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ এই ব্যাপক গণআন্দোলনকে ভারতের প্রথম বড় মাপের ‘জেন-জি প্রোটেস্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এই আন্দোলন নতুন মোড় নেয় যখন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ তথা খ্যাতনামা জলবায়ু আন্দোলনকারী সোনম ওয়াংচুক শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে অনশন শুরু করেন।

এরপর গত ২০ জুলাই সংসদের অভিমুখে একটি লংমার্চের ডাক দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সেই কর্মসূচির ঠিক আগেই জंतर-মন্তর চত্বর থেকে সোনম ওয়াংচুককে পুলিশ জোরপূর্বক সরিয়ে দেয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে সেই প্রতিবাদী কর্মসূচি ঘিরে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়। বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে সরাসরি অভিযোগ তোলা হয় যে, শান্তিপূর্ণ ছাত্র বিক্ষোভ দমনে বলপ্রয়োগ করা হয়েছিল। যদিও এর অনেক আগেই কংগ্রেসের ছাত্র শাখা এনএসইউআই (NSUI) NEET পরীক্ষা বাতিলের প্রতিবাদে গত ১২ মে দিল্লিতে বড়সড় বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছিল, তবুও শেষ পর্যন্ত এই পুরো রাজনৈতিক সমীকরণে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে দেশের প্রধান বিরোধী দল।