বিশ্বকাপ চলাকালীন মেসিকে আত্মঘাতী বোমায় উড়িয়ে দেওয়ার ছক! ফাঁস হওয়া সিক্রেট রিপোর্টে চাঞ্চল্য

বিশ্বফুটবলের জাদুকর লিওনেল মেসিকে টার্গেট করে বড়সড় জঙ্গি হামলার ছক কষা হয়েছিল বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। স্পেনের বিশিষ্ট সংবাদমাধ্যম ‘ইনফরমেসিয়ন.ইএস’-এর একটি প্রতিবেদনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশের কিছু গোপন ও সংবেদনশীল রিপোর্টের অংশ ফাঁস হয়েছে। সেই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসতেই বিশ্বজুড়ে ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে চরম আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। সদ্য সমাপ্ত ফুটবল বিশ্বকাপের সময় বিশ্ব ফুটবলের সেরা তারকা তথা আর্জেন্টিনা দলের অধিনায়ক লিওনেল মেসি সহ গোটা দল, একাধিক দেশের ফুটবলার, ফিফা কর্তা এবং ম্যাচ পরিচালনাকারী রেফারিরা আত্মঘাতী জঙ্গিদের প্রধান নিশানায় ছিলেন বলে জানা গেছে।

ফাঁস হওয়া ওই পুলিশি রিপোর্ট থেকে জানা যাচ্ছে, পুরো বিশ্বকাপ জুড়েই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোর বিভিন্ন স্টেডিয়ামে জঙ্গি হামলার প্রবল আশঙ্কা ছিল। গোয়েন্দা বিভাগ এবং পুলিশের কাছে একের পর এক হুমকি ইমেইল আসার ফলে নিরাপত্তাকর্মীদের ব্যস্ততা ও উদ্বেগ ছিল তুঙ্গে। বিশেষ করে আর্জেন্টিনা দলের জন্য মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ ও কঠোরতম নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সবচেয়ে বড় আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছিল আর্জেন্টিনা বনাম জর্ডন ম্যাচকে কেন্দ্র করে। ডালাস বিমানবন্দরে সরাসরি ফোন করে এক ব্যক্তি হুমকি দেয় যে, সে এবং তার আরও দুই সঙ্গী বাড়িতে তৈরি বোমা এবং এআর-১৫ (AR-15) রাইফেল নিয়ে স্টেডিয়ামের ভেতরে প্রবেশ করবে এবং মেসি সহ পুরো আর্জেন্টিনা দলকে উড়িয়ে দেবে। শুধু তাই নয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী মার্কিন পুলিশের ওপর হামলারও সরাসরি হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল।

এই হুমকিগুলির গুরুত্ব উপলব্ধি করে মার্কিন প্রশাসন কোনো ঝুঁকি নেয়নি। স্থানীয় পুলিশের পাশাপাশি দেশটির সর্বোচ্চ গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই (FBI) এবং সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পুলিশ কোঅপারেশন তথা আইপিসিসি-কে (IPCC) সঙ্গে সঙ্গে মাঠে নামানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কঠোর নজরদারি চালানো হয়েছিল ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর নিরাপত্তাতেও, যার ব্যাপারে ফিফার কাছেও বিস্তারিত খোঁজখবর নেওয়া হয়েছিল। তবে বেশিরভাগ হুমকি ও ষড়যন্ত্রের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন একমাত্র লিওনেল মেসি। এমনকি আর্জেন্টিনা বনাম মিশর ম্যাচের সময়ও চরম আতঙ্ক ছড়িয়েছিল। ম্যাচ শুরুর ঠিক আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় এক ব্যক্তি প্রাণনাশের হুমকি দেয়।

খেলার মাঠে নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ভয়াবহতা এখানেই শেষ হয়নি। ওই ম্যাচ পরিচালনা করা ফরাসি রেফারি ফ্রান্সিয়স লেক্সিয়ঁকে হোয়াটসঅ্যাপে ৬ হাজারের বেশি প্রাণনাশের হুমকি-মেসেজ পাঠানো হয়েছিল। রেহাই পাননি সেই ম্যাচের ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারিও। তা সত্ত্বেও মার্কিন নিরাপত্তা বাহিনীর মুন্সিয়ানা এবং গোয়েন্দাদের কঠোর তৎপরতার কারণে জঙ্গিদের সমস্ত নাপাক ছক ও চক্রান্ত ব্যর্থ করে দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত সন্ত্রাসবাদ পরাজিত হয়েছে এবং জিতেছে বিশ্ব ফুটবলের সুন্দর খেলা। এই কঠিন পরিস্থিতিতে আমেরিকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেভাবে দায়িত্ব পালন করেছে, তা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে।