মোদীর চিন সফরের আগে ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি, বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়ে আমেরিকার উদ্বেগ

ভারতের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ এবং বাণিজ্য আলোচনায় বসতে অস্বীকার করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ভারত-মার্কিন সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছেন, তখন চলতি মাসের শেষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর চিন সফর নিয়ে মুখ খুলেছে আমেরিকা। হোয়াইট হাউসের এই মন্তব্য কূটনৈতিক মহলে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে।

এই প্রসঙ্গে হোয়াইট হাউসের স্টেট ডিপার্টমেন্টের প্রধান উপ-মুখপাত্র টমি পিগট বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা সম্পর্কে খুবই স্পষ্ট এবং তিনি পদক্ষেপও নিয়েছেন।” তিনি আরও বলেন, “ভারত আমাদের কৌশলগত অংশীদার, আমাদের ভালো এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে, যা অব্যাহত থাকবে। তবে বিদেশনীতির ক্ষেত্রে যেমন হয়, আপনি আপনার অংশীদার দেশের সঙ্গে সব বিষয়ে ১০০ শতাংশ একমত হবেন না।”

ট্রাম্পের এই কঠোর অবস্থান এবং ওয়াশিংটনের মন্তব্যের প্রেক্ষাপটে ভারতের উপর মার্কিন শুল্ক আরোপের বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। ট্রাম্প সরকার প্রথমে রাশিয়ার থেকে সামরিক সরঞ্জাম এবং তেল কেনার কারণে ভারতকে ‘শাস্তি’ দিতে গত ১লা আগস্ট থেকে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা করে। এরপরে আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা করায় মোট শুল্কের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫০ শতাংশ।

এই কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জাপান ও চিন সফরে যাচ্ছেন। আগামী ৩১শে আগস্ট থেকে ১লা সেপ্টেম্বরের মধ্যে তিনি চিনের তিয়ানজিন শহরে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO)-এর শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন। উল্লেখ্য, রাশিয়াও এই সংস্থার সদস্য। ২০২০ সালের গালওয়ানে সংঘর্ষের পর এটিই প্রধানমন্ত্রীর প্রথম চিন সফর। SCO-তে ভারত, চিন, রাশিয়া, পাকিস্তান, ইরানসহ মোট ৯টি সদস্য দেশ রয়েছে।

কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, একদিকে ট্রাম্পের কঠোর বাণিজ্যিক পদক্ষেপ এবং অন্যদিকে মোদীর চিন ও রাশিয়া অন্তর্ভুক্ত SCO সম্মেলনে অংশগ্রহণ, ভারত-মার্কিন-চিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন জটিল সমীকরণ তৈরি করছে। হোয়াইট হাউসের সতর্কতামূলক মন্তব্য ভারত এবং আমেরিকার মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্বের ভবিষ্যতের উপর কী প্রভাব ফেলে, তা দেখতে এখন সময়ের অপেক্ষা।