স্বপ্নপূরণের পথে আলিপুরদুয়ার! নতুন মেডিকেল কলেজ গড়ার তোড়জোড়, হাসপাতাল থেকে দূরত্ব কত?

উত্তরবঙ্গের স্বাস্থ্য পরিষেবায় এক নতুন দিগন্ত খুলতে চলেছে। দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষার পর আলিপুরদুয়ারে মেডিকেল কলেজ গড়ার প্রক্রিয়া এখন একেবারে চূড়ান্ত পর্যায়ে। রাজ্য সরকারের নির্দেশে জোরকদমে শুরু হয়েছে জমি চিহ্নিতকরণের কাজ। স্বাস্থ্য দপ্তর ও জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে জেলা হাসপাতালকে কেন্দ্র করে মেডিকেল কলেজ গড়ে তোলার রূপরেখা প্রস্তুত করা হয়েছে।

জমি ও পরিকাঠামোর মানদণ্ড: ন্যাশনাল মেডিকেল কাউন্সিলের (NMC) গাইডলাইন অনুযায়ী, মেডিকেল কলেজ তৈরির জন্য কিছু কঠোর নিয়মাবলি মেনে চলতে হয়। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে:

  • জমির প্রয়োজন: মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাস তৈরির জন্য অন্তত ২৫ একর জমির প্রয়োজন।

  • হাসপাতালের দূরত্ব: ন্যাশনাল মেডিকেল কাউন্সিলের নিয়ম মেনে, মেডিকেল কলেজ থেকে সংযুক্ত হাসপাতালের দূরত্ব ১০ কিলোমিটারের মধ্যে হতে হবে।

  • শয্যা সংখ্যা: ইন্টার্নশিপের জন্য হাসপাতালে অন্তত ৪২০টি শয্যা থাকতে হবে এবং বার্ষিক গড়ে ৮০ শতাংশ শয্যা পূর্ণ থাকতে হবে।

প্রশাসনের প্রাথমিক বাছাই তালিকায় থাকা সবকটি জমিই আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতাল থেকে ১০ কিলোমিটারের মধ্যে এবং আলিপুরদুয়ার বিধানসভা এলাকার ভেতরে রয়েছে। এর মধ্যে আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালকেই মেডিকেল কলেজের সঙ্গে যুক্ত করার ব্যাপারে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে প্রশাসন।

পরিদর্শন ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত: সবকিছু পরিকল্পনা মাফিক এগোলে আগামী জুলাই মাসের প্রথম দিকেই আলিপুরদুয়ারে পৌঁছাবেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। তিনি নিজে সম্ভাব্য জমিগুলো পরিদর্শন করবেন এবং মেডিকেল কলেজের জন্য নির্দিষ্ট স্থান চূড়ান্ত করবেন। স্থানীয় বিধায়ক পরিতোষ দাস জানিয়েছেন, সব দিক খতিয়ে দেখেই স্বাস্থ্যমন্ত্রী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। শহর সংলগ্ন এলাকাকেই এক্ষেত্রে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

সুবিধা পাবেন সাধারণ মানুষ: মেডিকেল কলেজ তৈরির এই খবরে খুশি আলিপুরদুয়ারের বাসিন্দারা। প্রকল্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, একটি একীভূত ক্যাম্পাস গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, যেখানে মেডিকেল কলেজের পাশাপাশি ছাত্রছাত্রী ও ইন্টার্নদের হস্টেল এবং ট্রেনিং হাসপাতাল একই জায়গায় থাকবে। রাজ্যের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে উত্তরবঙ্গের এই প্রান্তিক জেলা থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আর মানুষকে অন্য শহরে ছুটতে হবে না।