“১৯৩০ ও ১১২ নম্বরই এখন রক্ষাকবচ”-নারী নিরাপত্তা নিয়ে কড়া বার্তা শুভেন্দুর

আরজি কর কাণ্ডের পর থেকে নারী নিরাপত্তা ও সাইবার অপরাধ দমনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার নবান্ন সভাঘরে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুলিশের পরিকাঠামো আধুনিকীকরণ এবং নারী সুরক্ষা নিশ্চিত করতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের উদ্বোধন করলেন।

সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় ১৯৩০: বর্তমান সময়ে সাইবার জালিয়াতি মহামারীর আকার নিয়েছে। এই অপরাধ রুখতে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি থানায় এবার থেকে চালু হচ্ছে বিশেষ ‘সাইবার হেল্পডেস্ক’। সাইবার প্রতারণার শিকার হলে ভুক্তভোগীরা সরাসরি ১৯৩০ নম্বরে ফোন করে অভিযোগ জানাতে পারবেন। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার এ বিষয়ে একযোগে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

মহিলাদের জন্য সুরক্ষা কবচ: নারী নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে মুখ্যমন্ত্রী বেশ কিছু যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছেন:

  • হেল্পলাইন ও জরুরি পরিষেবা: মহিলারা যেকোনো সময়, এমনকি রাতদুপুরে বিপদে পড়লে ১১২ নম্বরে ফোন করতে পারবেন। এই নম্বরে কল পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশি সহায়তা পৌঁছে যাবে।

  • প্রত্যেক থানায় গাড়ি: দুর্গাপূজার আগেই রাজ্যের প্রতিটি থানায় মহিলাদের সুরক্ষায় একটি করে নির্দিষ্ট গাড়ি দেওয়া হবে।

  • মহিলা থানা ও বিশেষ বাহিনী: প্রতিটি মহকুমায় একটি করে পূর্ণাঙ্গ মহিলা থানা চালু করা হবে। এছাড়া মহিলা পুলিশ আধিকারিকদের নিয়ে গঠিত হয়েছে ‘দুর্গা স্কোয়াড’। তাঁদের দেখা যাবে লাল রঙের বুলেট বাইকে টহল দিতে। পাশাপাশি, মহিলা পুলিশকর্মীদের নিয়ে তৈরি হচ্ছে ‘রানি শিরোমণি’‘মাতঙ্গিনী হাজরা’ নামে দুটি বিশেষ ব্যাটেলিয়ন।

‘গোল্ডেন আওয়ার’-এ তৎপর পুলিশ: মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, বিপদের খবর পাওয়া মাত্রই ‘গোল্ডেন আওয়ার’-এর মধ্যে পুলিশকে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না।

রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপ শহর এবং জেলার মহিলাদের মধ্যে নিরাপত্তা বোধ আরও জোরালো করবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।