ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপালো আমেরিকা, বিপর্যস্ত ভারতের পোশাক শিল্প!

ভারত থেকে আমদানি করা পণ্যের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছে আমেরিকা। এই সিদ্ধান্তের ফলে ওয়ালমার্ট, অ্যামাজন, টার্গেট এবং গ্যাপের মতো একাধিক মার্কিন রিটেল জায়ান্ট ভারতের অর্ডার বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে ভারতের বস্ত্রশিল্প গভীর সঙ্কটের মুখে পড়েছে।

রফতানি বন্ধের নির্দেশ
ভারতের বস্ত্র ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, তাঁরা মার্কিন ক্রেতাদের কাছ থেকে চিঠি ও ইমেল পেয়েছেন, যেখানে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত জামাকাপড়ের চালান বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে ভারতের বস্ত্রশিল্প, বিশেষত যারা আমেরিকাকে প্রধান বাজার হিসেবে দেখে, তারা প্রবল চাপের মধ্যে পড়েছে। ওয়েলস্পান লিভিং, গোকালদাস এক্সপোর্টস, ইন্দো কাউন্ট, ট্রিডেন্ট-এর মতো বড় রফতানিকারক সংস্থাগুলো তাদের মোট রফতানির ৪০ থেকে ৭০ শতাংশই আমেরিকায় পাঠায়, ফলে তাদের ব্যবসা বড়সড় ধাক্কা খাওয়ার আশঙ্কা করছে।

শুল্কের কারণ এবং ভারতের প্রতিক্রিয়া
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি এক্সিকিউটিভ অর্ডার সই করে এই ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা করেন। এর মধ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক বৃহস্পতিবার থেকে কার্যকর হয়েছে এবং বাকি ২৫ শতাংশ আগস্টের শেষে লাগু হবে। ট্রাম্পের অভিযোগ, ভারত পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করে চলেছে। এই কারণেই ট্রাম্প রাশিয়ার মিত্র দেশগুলোর ওপর শুল্ক চাপাতে শুরু করেছেন।

এর উত্তরে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক বলেছে, “আমেরিকার এই সিদ্ধান্ত অন্যায্য, অযৌক্তিক এবং অবিচারপূর্ণ।” মন্ত্রকের দাবি, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর বৈশ্বিক জ্বালানির বাজার স্থিতিশীল রাখতে আমেরিকা নিজেই ভারতকে রাশিয়া থেকে তেল নিতে উৎসাহিত করেছিল। এখন এই শুল্ক আরোপ সম্পূর্ণ পক্ষপাতদুষ্ট।

ভারতের সম্ভাব্য ক্ষতি এবং বিকল্পের সন্ধান
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নতুন শুল্কনীতি রফতানির খরচ ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে পারে। এর ফলে আমেরিকামুখী অর্ডার ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যার ফলে ভারতীয় শিল্প প্রায় ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে, যা টাকার অঙ্কে প্রায় ৩৩,০০০ থেকে ৪১,০০০ কোটি টাকা।

এই পরিস্থিতিতে ভারতের রফতানির বাজার বাংলাদেশ বা ভিয়েতনামের মতো দেশগুলোর হাতে চলে যেতে পারে, কারণ তাদের ওপর আমেরিকার শুল্ক মাত্র ২০ শতাংশ। ভারতের পোশাক শিল্প ইতিমধ্যেই সরকারের কাছে দ্রুত কূটনৈতিক হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছে।