মেসি ম্যাজিক আর জোড়া গোল!-আর্জেন্টিনাকে একাই টেনে নিয়ে যাচ্ছেন LM 10?

এলেন, দেখলেন, জয় করলেন—ফুটবল বিশ্বের রাজপুত্রের ক্ষেত্রে এই কথাটিই যেন বারবার সত্য প্রমাণিত হচ্ছে। সোমবার অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে মাঠজুড়ে দেখা গেল এক অমোঘ ‘মেসি ম্যাজিক’। পেনাল্টি মিসের ছোটখাটো ভুল থাকলেও, জোড়া গোল করে আর্জেন্টিনার নকআউটে ওঠা নিশ্চিত করলেন খোদ লিওনেল মেসি।
পেনাল্টি মিস ও ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প: ম্যাচের শুরুতেই আর্জেন্টিনা পেনাল্টি পেয়েছিল। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি ফুটবলের জাদুকর। বল টার্গেটে রাখতে ব্যর্থ হন মেসি। তবে সেই ব্যর্থতা দীর্ঘস্থায়ী হতে দেননি তিনি। ম্যাচের ৩৮ মিনিটে ডান দিক থেকে আসা একটি ক্রসকে নিখুঁতভাবে জালে জড়িয়ে পেনাল্টি মিসের দুঃখ ভুলিয়ে দেন এলএম ১০।
শেষ মুহূর্তের গোল: ম্যাচের দ্বিতীয় অর্ধে অস্ট্রেলিয়া রক্ষণভাগের পাশাপাশি পালটা আক্রমণের চেষ্টা করলেও আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমি মার্টিনেজের কোনো বড় পরীক্ষা নিতে পারেনি। উলটে খেলার একেবারে শেষ মুহূর্তে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে দলকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন মেসি। বিশ্বকাপে এটি তাঁর ১৮তম গোল।
একই চিন্তার ভাঁজ: জয় এলেও ফুটবল মহলে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে আর্জেন্টিনার ‘মেসি-নির্ভর’ ফুটবল। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, মেসি ম্যাজিক বাদে বাকি দল এদিন খুব একটা নজরকাড়া পারফরম্যান্স করতে পারেনি। দল পুরোপুরি এক খেলোয়াড়ের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়লে নকআউটে তা হিতে বিপরীত হতে পারে।
গত ১২-১৪ বছর ধরে আর্জেন্টিনা এই কৌশলেই খেলেছে, কিন্তু তাতে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অধরাই ছিল। ২০২২ বিশ্বকাপে মেসি চালিকাশক্তি হলেও বাকিদের সেরা পারফরম্যান্সই আর্জেন্টিনাকে বিশ্বসেরা করেছিল। ২০২৬-এর এই আসরে মেসির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কোচ লিওনেল স্কালোনির জন্য মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে কি না, এখন সেটাই বড় প্রশ্ন।