হঠাৎ বদলে গেছে পার্টনারের এই ৩টি অভ্যাস? চোখের সামনেই হয়তো চলছে পরকীয়া!

বিশ্বাস এবং সততার ওপর ভিত্তি করেই গড়ে ওঠে যেকোনো সুস্থ সম্পর্কের ভিত। কিন্তু আধুনিক জীবনযাত্রার জটিলতায় অনেক সময়ই সেই সম্পর্কে ফাটল ধরায় ‘পরকীয়া’ বা তৃতীয় ব্যক্তির আগমন। সঙ্গী বা পার্টনার অন্য কারো প্রতি আসক্ত কি না, তা সরাসরি বোঝা না গেলেও, তাঁর দৈনন্দিন কিছু আচরণ এবং অভ্যাসের পরিবর্তন অনেক বড় ইঙ্গিত দেয়। মনোবিদ এবং সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, অবহেলা না করে সঙ্গীর কিছু আচরণের দিকে নজর রাখলেই বোঝা সম্ভব সম্পর্কে কোনো জটিলতা তৈরি হয়েছে কি না।

পরকীয়া বা সম্পর্কে প্রতারণার ক্ষেত্রে সাধারণত যে ধরনের আচরণগত পরিবর্তনগুলি সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা যায়, তা নিচে আলোচনা করা হলো:

১. স্মার্টফোনে অতিরিক্ত গোপনীয়তা ও পাসওয়ার্ড বদল

সম্পর্কে ফাঁকি দেওয়ার প্রথম এবং প্রধান লক্ষণটি দেখা যায় ফোনের ব্যবহারে। যদি দেখেন আপনার সঙ্গী হঠাৎ করেই তাঁর ফোনের পাসওয়ার্ড বদলে ফেলেছেন এবং আপনার থেকে ফোন লুকিয়ে রাখছেন, তবে তা চিন্তার কারণ হতে পারে। এছাড়া, ফোন সবসময় স্ক্রিন নিচের দিকে করে রাখা, বাথরুমেও ফোন নিয়ে যাওয়া, মাঝরাতে লুকিয়ে টেক্সট করা এবং কল হিস্ট্রি বা চ্যাট নিয়মিত ডিলিট করার প্রবণতা পরকীয়ার অন্যতম বড় ইঙ্গিত।

২. আচমকা লুক ও ফিটনেসের প্রতি অতিরিক্ত নজর

হঠাৎ করেই যদি সঙ্গী নিজের সাজগোজ, পোশাক-আশাক বা শারীরিক গঠনের প্রতি অতিরিক্ত সচেতন হয়ে ওঠেন, তবে একটু সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। বছরের পর বছর যে মানুষটি নিজের লুক নিয়ে উদাসীন ছিলেন, তিনি যদি হঠাৎ নতুন পারফিউম ব্যবহার শুরু করেন, নিয়মিত জিম বা ডায়েট করা কিংবা নতুন স্টাইলের পোশাক কিনতে শুরু করেন, তবে হতে পারে তিনি নতুন কাউকে ইমপ্রেস বা আকর্ষণ করার চেষ্টা করছেন।

৩. অপরাধবোধ থেকে অতিরিক্ত ভালোবাসা বা অযথা ঝগড়া

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, পরকীয়ায় জড়ালে মানুষের মনে এক ধরনের সুপ্ত অপরাধবোধ কাজ করে। এই অপরাধবোধ ঢাকতে অনেকেই সঙ্গীকে হঠাৎ উপহার দেওয়া বা অতিরিক্ত ভালোবাসা দেখাতে শুরু করেন। আবার এর ঠিক উল্টোটাও হতে পারে—অনেকে নিজের ভুল ঢাকতে সঙ্গীর ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করেন। ফলে সামান্য বিষয় নিয়ে খিটখিটে আচরণ, চিৎকার করা বা অযথা ঝগড়া করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ে।

৪. সময়ের হিসাব না মেলা এবং অজুহাতের বন্যা

অফিসের কাজের অজুহাতে প্রায়ই দেরি করে বাড়ি ফেরা, ঘন ঘন ‘জরুরি মিটিং’ বা ‘বিজনেস ট্যুর’-এর কথা বলা এবং ছুটির দিনেও বন্ধুদের সঙ্গে ব্যস্ততা দেখানো পরকীয়ার চেনা ছক। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এই ব্যস্ততা বা দেরির কারণ জানতে চাইলে তাঁদের কথায় অসঙ্গতি বা খামতি ধরা পড়ে এবং তাঁরা রেগে যান।

৫. মানসিক ও শারীরিক দূরত্ব তৈরি হওয়া

একসঙ্গে সময় কাটানোর আগ্রহ কমে যাওয়া সম্পর্কের অবনতির একটি বড় লক্ষণ। সঙ্গী যদি আপনার সঙ্গে মন খুলে কথা বলা বন্ধ করে দেন, নিজের ভালোলাগা-মন্দলাগা শেয়ার না করেন এবং শারীরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে উদাসীন বা অতিরিক্ত যান্ত্রিক হয়ে পড়েন, তবে বুঝতে হবে সম্পর্কে কোনো শূন্যতা তৈরি হয়েছে।

বিশেষ এডিটরস নোট: কোনো একটি লক্ষণ দেখেই সঙ্গীকে সরাসরি সন্দেহ করা বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া ভুল হবে। অনেক সময় অফিসের কাজের চাপ বা ব্যক্তিগত মানসিক অবসাদের কারণেও মানুষ এমন আচরণ করতে পারেন। তাই যেকোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সঙ্গীর সঙ্গে সরাসরি ও খোলামেলা আলোচনা করা এবং সম্পর্কের সমস্যাগুলি বোঝার চেষ্টা করাই বুদ্ধিমানের কাজ।