মেসি-কাণ্ডে নয়া মোড়! প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের রক্ষাকবচকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে মামলা

আর্জেন্টিনার সুপারস্টার লিওনেল মেসির কলকাতা সফরকে কেন্দ্র করে যে নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা ও অব্যবস্থাপনা তৈরি হয়েছিল, তার রেশ এখনো কাটেনি। সেই বিতর্কিত ঘটনার জেরে রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে দেওয়া কলকাতা হাইকোর্টের অন্তর্বর্তীকালীন রক্ষাকবচকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ফের বড়সড় আইনি লড়াই শুরু হলো। মামলার মূল অভিযোগকারী তথা অনুষ্ঠানের আয়োজক শতদ্রু দত্ত অরূপ বিশ্বাসের এই রক্ষাকবচ বাতিলের আর্জি নিয়ে এবার কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছেন।
প্রসঙ্গত, গত ১০ জুন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চ অরূপ বিশ্বাসকে আগামী ১৭ আগস্ট পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষা কবচ প্রদান করেছিল। তবে সেই নির্দেশ দেওয়ার সময় বিচারপতি অরূপ বিশ্বাসকে কঠোর ভর্ৎসনা করে প্রশ্ন তুলেছিলেন যে, একজন মন্ত্রী হিসেবে তিনি কীভাবে তারকা ফুটবলার ও সংশ্লিষ্ট ইভেন্ট নিয়ে এমন আচরণ করতে পারেন। সেইসঙ্গে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারকে ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত করে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন আদালত।
কিন্তু ওই সুরক্ষাকবচ পাওয়ার বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি অনুষ্ঠানের আয়োজক শতদ্রু দত্ত। তাঁর আইনজীবী যুবরাজ চট্টপাধ্যায় প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চে এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে আবেদন জানিয়েছেন। আশা করা হচ্ছে, আগামী সপ্তাহেই এই মামলার গুরুত্বপূর্ণ শুনানি হতে পারে।
মেসি-কাণ্ডে গ্রেফতারির আশঙ্কায় গত ৮ জুন অরূপ বিশ্বাস আইনজীবী কিশোর দত্তের মাধ্যমে প্রথম হাইকোর্টে রক্ষাকবচের আবেদন করেছিলেন। আয়োজক শতদ্রু দত্তের দায়ের করা এফআইআরে প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির পাঁচটি পৃথক ধারায় অভিযোগ তোলা হয়েছিল। অভিযোগ, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।
আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে যে, সেদিন সল্টলেকের বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে হাজার হাজার ফুটবলপ্রেমী মেসিকে এক নজর দেখার অপেক্ষায় ছিলেন। বহু মানুষ বিপুল মূল্যের টিকিট কেটেও প্রিয় তারকাকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় আর্জেন্তিনার এই মহাতারকা সময়ের আগেই মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, একই সময়ে দেশের অন্য তিনটি শহরে একই অনুষ্ঠান কোনো ঝামেলা ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছে। কলকাতা ও রাজ্যের মাটিতে এই ঘটনা শহরকে লজ্জিত করেছে এবং রাজ্যের সম্মানহানি ঘটিয়েছে। হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, আইনি রক্ষাকবচ দেওয়া হলেও আদালত এই বিষয়ে চোখ বন্ধ করে বসে থাকবে না। এই ঘটনাটি যেভাবে রাজ্যবাসীর আবেগ ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে শহরের ভাবমূর্তিকে আঘাত করেছে, তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে আদালত। এখন ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলায় কী রায় দেয়, সেদিকেই তাকিয়ে আছে রাজ্য রাজনীতির কারবারিরা।