ক্যারিয়ারের শীর্ষে থেকেও বডি শেমিংয়ের শিকার! মুখ খুললেন ‘ধক ধক গার্ল’ মাধুরী দীক্ষিত

ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এমন কয়েকজন অভিনেত্রী আছেন, যাঁদের আবেদন এবং অভিনয়শৈলী প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে চিরসবুজ। নব্বইয়ের দশকের বলিউডে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করা মাধুরী দীক্ষিত সেই তালিকায় অন্যতম। তাঁর জাদুকরী হাসি আর নাচের মুদ্রা আট থেকে আশি—সব বয়সের দর্শকের মন জয় করেছে। তবে সাফল্যের শিখরে থাকলেও ক্যারিয়ারের শুরুতে তাঁকে সহ্য করতে হয়েছে তীব্র বডি শেমিং বা শারীরিক গড়ন নিয়ে কটূ মন্তব্য।

১৯৮৪ সালে রাজশ্রী প্রোডাকশনের ‘অবোধ’ ছবির মাধ্যমে মাত্র ১৭ বছর বয়সে বলিউডে পা রাখেন তিনি। বিপরীতে ছিলেন বাঙালি অভিনেতা তাপস পাল। ছবিটি বক্স অফিসে সেভাবে সাড়া না ফেললেও মাধুরীর অভিনয়ের সম্ভাবনা ফুটে উঠেছিল। এরপর বেশ কয়েকটি সিনেমা ফ্লপ করলেও, ১৯৮৮ সালে এন. চন্দ্র পরিচালিত ‘তেজাব’ তাঁর ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ‘এক দো তিন’ গানটি রাতারাতি তাঁকে সাফল্যের শীর্ষে বসিয়ে দেয়। এরপর ‘দিল’, ‘বেটা’, ‘হাম আপকে হ্যায় কৌন..!’, ‘দিল তো পাগল হ্যায়’ এবং ‘দেবদাস’-এর মতো সিনেমা তাঁকে ভারতীয় চলচ্চিত্রের এক অবিসংবাদিত আইকনে পরিণত করে। ২০০৮ সালে ভারত সরকার তাঁকে ‘পদ্মশ্রী’ সম্মাননায় ভূষিত করে।

সাফল্যের এই দীর্ঘ পথ খুব একটা মসৃণ ছিল না। এক সাক্ষাৎকারে মাধুরী অকপটে স্বীকার করেছেন, ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে তাঁকে তাঁর রোগা শরীর নিয়ে নানা কটূ কথা শুনতে হতো। পরে যখন তিনি গ্ল্যামারাস ও কিছুটা ভরা চেহারার অধিকারী হলেন, তখনও নিন্দুকদের জিব থামেনি। অভিনেত্রীর কথায়, ‘’মানুষ সবসময় নারীদের চেহারা নিয়ে কাটাছেঁড়া করতে পছন্দ করে। আমি এই ধরনের মন্তব্যকে কখনোই গুরুত্ব দিইনি।’’ মহিলাদের শারীরিক গঠন নিয়ে সমাজের এই ক্ষুদ্র মানসিকতায় তিনি রীতিমতো বিরক্ত। মাধুরীর মতে, একজন শিল্পীকে তাঁর কাজ দিয়ে বিচার করা উচিত, বাহ্যিক রূপ দিয়ে নয়।

মাধুরী দীক্ষিত আজ সাফল্যের চার দশক পেরিয়ে এসেছেন। ছয়বার ফিল্মফেয়ার পুরস্কার জেতা এবং অসংখ্য সম্মাননা পাওয়া এই অভিনেত্রী আজও বহু তরুণীর অনুপ্রেরণা। বডি শেমিং বা কটূ মন্তব্যকে পাত্তা না দিয়ে মাধুরী শিখিয়েছেন, নিজের ওপর আত্মবিশ্বাস থাকলেই সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছানো সম্ভব। আজকের দিনে দাঁড়িয়ে মাধুরী কেবল একজন অভিনেত্রী নন, তিনি নিজেই একটি প্রতিষ্ঠান। নিন্দুকদের সমালোচনাকে দূরে সরিয়ে রেখে তিনি বারবার প্রমাণ করেছেন যে, প্রতিভাই শেষ কথা বলে।

Riya Chakrabarty
  • Riya Chakrabarty