মেট্রোপলিটনে ‘ঋতব্রত তৃণমূল’-এর দাপট, তৃণমূল ভবনে তালা ঝোলাতেই তোপ দাগলেন বিজেপি নেত্রী

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ক্ষমতার লড়াই এখন আর গোপন নেই। দীর্ঘদিনের সংঘাতের পর এবার সরাসরি দলীয় কার্যালয় দখলের অভিযোগ উঠল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরের বিরুদ্ধে। কলকাতার মেট্রোপলিটন এলাকায় অবস্থিত তৃণমূলের সদর কার্যালয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামীরা তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে বলে খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক দলের অন্দরের ফাটল যে এতটাই চওড়া হয়েছে, তা এখন স্পষ্ট।
তবে এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে রাজ্য সরকারকে সরাসরি নিশানা করেছেন বিজেপি নেত্রী কেয়া ঘোষ। সোশ্যাল মিডিয়ায় তোপ দেগে তিনি তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের দিকে আঙুল তুলেছেন। কেয়া ঘোষের দাবি, “জায়গা বা জমি দখল নেওয়ার অভ্যেস মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এখনও যায়নি। তাঁদের রক্তেই মিশে আছে দখলদারি।” বিজেপি নেত্রীর এই বিস্ফোরক মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের অন্দরে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে যে ঠান্ডা লড়াই চলছিল, তা এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবির এদিন আচমকাই দলীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হয় এবং সেখানে বৈঠক করার পর মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয়। তাদের দাবি, দলীয় কার্যালয়ের সঙ্গে তৃণমূলের ইতিহাস জড়িয়ে আছে, তাই এর নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু এই পদক্ষেপকে ‘বেআইনি’ আখ্যা দিয়ে ইতিমধ্যেই স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। কুণাল ঘোষসহ কালীঘাটপন্থী তৃণমূল নেতারা এই দখলদারিকে ‘পরিকল্পিত প্ররোচনা’ হিসেবেই দেখছেন।
বিজেপি নেত্রী কেয়া ঘোষের মন্তব্য এক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তিনি মনে করেন, তৃণমূলের সংস্কৃতিই হলো দখলদারি। তিনি বলেন, “বাংলার মানুষ সব দেখছে। এরা আগে সাধারণ মানুষের জমি দখল করত, এখন নিজেদের দলের কার্যালয় দখল করছে। এদের কাছে দলের শৃঙ্খলা বা নৈতিকতার কোনো মূল্য নেই।” কেয়া ঘোষের এই মন্তব্য তৃণমূলের অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহল।
ইতিমধ্যেই এই কার্যালয় দখল ও তালা ঝোলানোর ঘটনার জেরে প্রগতি ময়দান থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তৃণমূলের একাংশ। দলের বিধায়ক কুণাল ঘোষ ও মদন মিত্র সরাসরি ঋতব্রত শিবিরের নেতাদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন। তাঁদের কথায়, যারা দলের অন্দরে অস্থিরতা তৈরি করতে বিজেপি নেতাদের সাথে গোপন বৈঠক করছে, তারাই এখন পিছনের দরজা দিয়ে কার্যালয় দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে। নির্বাচনের বিপর্যয়ের পর তৃণমূলের এই নজিরবিহীন গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব রাজ্যজুড়ে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
নির্বাচন কমিশনেও দুই গোষ্ঠীর মধ্যে আইনি লড়াই চলছে। ‘আসল’ তৃণমূল কারা, তা নিয়ে যখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া বাকি, তখনই কার্যালয় দখলের এই ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলল। এখন দেখার বিষয়, পুলিশি অভিযোগের পর এবং বিজেপি নেতৃত্বের এই কড়া প্রতিক্রিয়ার মুখে দাঁড়িয়ে তৃণমূলের অন্দরের এই সমীকরণ আগামীদিনে কোন দিকে গড়ায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় কার্যালয়ে তালা ঝোলানোর এই ঘটনা নিছক দখলদারি নয়, বরং তৃণমূলের অন্দরের অস্তিত্ব রক্ষার চূড়ান্ত লড়াইয়ের একটি বহিঃপ্রকাশ।