মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এল ১৩ ফুটের দানবাকৃতি কিং কোবরা! আহত সাপের ক্ষত সেলাই করে যা করলেন সাহসী চিকিৎসক?

নাগরাকাটার সুলকাপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের মঙরুপাড়া এলাকায় ঘটে গেল এক কার্যত নজিরবিহীন ও রোমহর্ষক ঘটনা, যা নিয়ে বর্তমানে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য। স্থানীয় বাসিন্দা ডিমপল ওরাওয়ের বাড়ির পিছন থেকে উদ্ধার করা হয়েছে প্রায় ১৩ ফুট লম্বা একটি বিশালাকার এবং গুরুতর আহত কিং কোবরা। লোকালয়ের মধ্যে এত বড় ও বিষধর সাপ দেখতে পেয়ে মুহূর্তের মধ্যে গোটা এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সাপের আকৃতি এবং তার ফোঁস ফোঁস শব্দে রীতিমতো থমকে যান স্থানীয় বাসিন্দারা।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে দ্রুত খবর দেওয়া হয় এলাকার পরিচিত সর্পপ্রেমী ও পরিবেশকর্মী সৈয়দ নইম বাবুনকে। খবর পাওয়া মাত্রই তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে বিশালকায় কিং কোবরাটিকে নিরাপদে উদ্ধার করেন। তবে উদ্ধারের পরই সাপটির শরীর জুড়ে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান সর্পপ্রেমীরা। সাপটির শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে সেটিকে দ্রুত একটি পশু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় চিকিৎসার জন্য।

হাসপাতালে পৌঁছানোর পর দায়িত্ব নেন স্থানীয় এক পশু চিকিৎসক। প্রায় ১৩ ফুটের একটি অত্যন্ত বিষধর সাপকে সামনে পেয়ে স্বাভাবিকভাবেই চরম আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয় চিকিৎসকের মনে। কারণ সামান্য ভুল মানেই নিশ্চিত মৃত্যু। কিন্তু নিজের পেশাগত দায়িত্ব এবং বন্যপ্রাণীর প্রতি ভালোবাসার টানে সমস্ত ভয়কে সম্পূর্ণ জয় করে তিনি এগিয়ে আসেন। অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে আহত কিং কোবরাটির শরীর চিরে বা ক্ষতস্থানে নিখুঁতভাবে সেলাই করেন ওই চিকিৎসক, যা দেখে তাজ্জব বনে যান হাসপাতালের উপস্থিত কর্মীরাও। বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ না হয়েও একজন সাধারণ পশু চিকিৎসকের এমন অভাবনীয় ও সাহসী উদ্যোগ সত্যিই বিরল।

চিকিৎসা শেষে বর্তমানে কিং কোবরাটি সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পরবর্তীতে সমস্ত আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সাপটিকে বন দফতরের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এরপর খুনিয়া রেঞ্জের অভিজ্ঞ বনকর্মীরা নিরাপদে ওই বিশাল আকৃতির কিং কোবরাটিকে গভীর জঙ্গলে ফিরিয়ে দেন। লোকালয়ের মধ্যে এমন একটি দানবাকৃতি সাপের প্রবেশ এবং পরবর্তীতে এক চিকিৎসকের চরম সাহসিকতায় তার জীবন রক্ষা পাওয়ার এই পুরো ঘটনাটি নাগরাকাটা জুড়ে দারুণ প্রশংসিত হয়েছে। সাধারণ মানুষের মনে একরাশ আতঙ্ক ছড়ালেও শেষ পর্যন্ত বন্যপ্রাণী সুরক্ষার এই মানবিক চিত্রটি সকলের মন জয় করে নিয়েছে।