আহা! সুনীল শেঠির জন্মদিনে ফ্রেমে ধরা দিলেন দুই প্রজন্মের দুই তারকা! ছবি দেখে কী বললেন ভক্তরা?

আজ ১১ই আগস্ট, বলিউড ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম জনপ্রিয় ও চিরসবুজ অভিনেতা সুনীল শেঠির জন্মদিন। বিশেষ এই শুভ দিনে ভক্তকুল থেকে শুরু করে বলিউড তারকারা এবং তাঁর ঘনিষ্ট বন্ধুরা সমাজমাধ্যমের পাতায় শুভেচ্ছার জোয়ারে ভাসিয়ে দিচ্ছেন প্রিয় অভিনেতাকে। অভিনেতার এই বিশেষ দিনে তাঁর আদরের ছেলে তথা উদীয়মান তারকা আহান শেঠি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি অত্যন্ত মিষ্টি ও আবেগঘন ছবি শেয়ার করে বাবাকে জন্মদিনের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, যা ইতিমধ্যেই নেটদুনিয়ায় হু হু করে ভাইরাল হয়ে গেছে এবং অনুরাগীদের মন জয় করে নিয়েছে। আহান তাঁর অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে বাবা সুনীল শেঠির সঙ্গে নিজের একটি চমৎকার ছবি পোস্ট করেছেন এবং ক্যাপশনে বাবাকে ট্যাগ করে খুব সহজ ও ভালোবাসায় ভরা ভাষায় লিখেছেন, “শুভ জন্মদিন, পাপা।” অন্যদিকে, বলিউডের আরেক জনপ্রিয় তারকা জ্যাকি শ্রফও তাঁর ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে সুনীল শেঠির সঙ্গে একটি পুরনো ও বিশেষ ছবি শেয়ার করে জন্মদিনের আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন। অভিনেতা অত্যন্ত স্নেহের সুরে ক্যাপশনে লিখেছেন, “আসল ভিদু। শুভ জন্মদিন।” জ্যাকি ও সুনীলের এই নিখাদ বন্ধুত্ব ভক্তদের পুরোনো দিনের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে।
বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে জ্যাকি শ্রফ এবং সুনীল শেঠির বন্ধুত্ব অত্যন্ত গভীর এবং তাঁদের পারস্পরিক সখ্যতার কথা কারোরই অজানা নয়। তাঁরা রূপালি পর্দায় বহু সুপারহিট চলচ্চিত্রে একসঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করেছেন। এর মধ্যে ১৯৯৭ সালের মেগা ব্লকবাস্টার ‘বর্ডার’, ‘বাজ: এ বার্ড ইন ডেঞ্জার’, ‘হুলচুল’ এবং কাল্ট কমেডি ছবি ‘আপনা সপনা মানি মানি’-র মতো জনপ্রিয় সিনেমাগুলো দর্শকের মনে চিরকালের মতো জায়গা করে নিয়েছে। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে সুনীল শেঠি একশোটিরও বেশি চলচ্চিত্রে অত্যন্ত সফলভাবে অভিনয় করেছেন। ১৯৯২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত অ্যাকশন ঘরানার চলচ্চিত্র ‘বলওয়ান’-এর মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে রূপালি পর্দায় তাঁর অভিনয় জীবন শুরু করেছিলেন। ৯০-এর দশকে তিনি প্রথমে একজন দুর্ধর্ষ অ্যাকশন হিরো হিসেবে নিজের শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেন এবং পরবর্তী সময়ে দুর্দান্ত কমেডি এবং গভীর আবেগঘন চরিত্রে অভিনয় করে সমস্ত দর্শকদের মুগ্ধ করেছিলেন।
‘বলওয়ান’ ছবির মাধ্যমে রুপালি পর্দায় পা রাখার পর, এই অভিনেতা পরপর ‘মোহরা’, ‘দিলওয়ালে’, ‘গোপী কিষাণ’ এবং ‘সাপুত’-এর মতো কমার্সিয়ালি সফল ছবিতে অভিনয় করে নব্বইয়ের দশকের অন্যতম ব্যস্ত ও সফল তারকা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। তবে ২০০০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত কাল্ট কমেডি সিনেমা ‘হেরা ফেরি’ সুনীল শেঠির অভিনেতা হিসেবে প্রচলিত ভাবমূর্তি পুরোপুরি বদলে দিয়েছিল। এই ছবিতে ‘শ্যাম’ চরিত্রে তাঁর অনন্য অভিনয় ও কমিক টাইমিং ভারতীয় চলচ্চিত্র ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে রয়েছে। এছাড়া ২০০০ সালের ব্যবসাসফল ছবি ‘ধড়কন’ এবং ২০০৪ সালের মেগা প্রজেক্ট ‘ম্যায় হুঁ না’-র মতো চলচ্চিত্রে তাঁর চোখ ধাঁধানো নেতিবাচক ও খলনায়কের চরিত্র ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছিল। বিশেষ করে ‘ধড়কন’ ছবিতে অসাধারণ অভিনয়ের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ খলনায়ক হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ ফিল্মফেয়ার পুরস্কার অর্জন করেছিলেন। শুধু অভিনয়ই নয়, সুনীল শেঠি তাঁর নিজস্ব প্রযোজনা সংস্থা ‘পপকর্ন এন্টারটেইনমেন্ট’-এর ব্যানারে ‘খেল’, ‘রক্ত’ এবং ‘ভাগম ভাগ’-এর মতো জনপ্রিয় চলচ্চিত্রগুলোও সফলভাবে প্রযোজনা করেছেন। আজকের এই বিশেষ দিনে আমরাও এই লিজেন্ডারি অভিনেতার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করি।