পুরোনো জটিলতা ভুলে যান! রাজস্থান সরকারের মাস্টারস্ট্রোক সিদ্ধান্তে মিলবে কোটি টাকার সম্পত্তির মুক্তি!

আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনের ঠিক আগে রাজস্থানের শহরাঞ্চলের মহাসড়কের ধারে বসবাসকারী লক্ষ লক্ষ বাসিন্দা এবং ভবন মালিকদের জন্য এক বিশাল সুখবর নিয়ে এল রাজ্য সরকার। জয়পুর, কোটা এবং যোধপুর সহ রাজ্যের প্রধান প্রধান শহরাঞ্চলের মধ্য দিয়ে চলে যাওয়া সমস্ত জাতীয় ও রাজ্য মহাসড়কগুলির প্রস্থ এবার নতুন করে পুনর্বিন্যাস করার যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নগর উন্নয়ন ও মানবসম্পদ (UDH) বিভাগের এই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের ফলে এতদিন ধরে মহাসড়কের ভুল বা পুরোনো প্রস্থের কড়াকড়ির কারণে আটকে থাকা হাজার হাজার জমির প্লট এবং বাণিজ্যিক বা আবাসিক ভবনগুলির নিয়মিতকরণ বা রেগুলারাইজেশনের দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া অত্যন্ত দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাবে বলে তীব্র আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এই বিশেষ সিদ্ধান্তের সুবাদে উপশহর ও প্রধান সড়কগুলোর আশেপাশের বৈধ জমির পাট্টা প্রদানের পথও চিরতরে প্রশস্ত হবে।

বর্তমানে জয়পুর, কোটা এবং যোধপুরের মতো প্রধান ও জনবহুল শহরগুলোতে যেভাবে বেপরোয়া ও দ্রুত নগরায়ণ হয়েছে, তার জেরে মহাসড়কের নির্ধারিত সীমার কবলে পড়ে বহু পুরোনো কলোনি এবং স্থায়ী নির্মাণকাজ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। নতুন এই নির্দেশিকা অনুযায়ী, মহাসড়কের রাইট-অফ-ওয়ে (Right-of-Way), অর্থাৎ সোজা কথায় রাস্তার জন্য নির্ধারিত মোট জমির প্রস্থ স্থানীয় পরিস্থিতি বিচার করে নতুন করে নির্ধারণ করা হবে। এই সমগ্র কাজটি সম্পন্ন করার জন্য একটি বিশেষ ক্ষমতাপ্রাপ্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কমিটি এলাকার বর্তমান পরিস্থিতি, সড়কের ব্যস্ততা এবং যানবাহনের চাপ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করে রাইট-অফ-ওয়ে চূড়ান্ত করবে। এর ওপর ভিত্তি করেই আটকে থাকা প্লট, লেআউট প্ল্যান এবং ভবন নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

বিশেষ করে রাজধানী জয়পুরে এর একটি অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে চলেছে। জয়পুর-টঙ্ক, জয়পুর-আজমের এবং জয়পুর-সিকারের মতো প্রধান সড়কগুলোর দুপাশে অসংখ্য অভিজাত ও জনবহুল আবাসিক কলোনি গড়ে উঠেছে। মহাসড়কের পুরোনো প্রস্থ এবং রাইট-অফ-ওয়ের কড়া নিয়মের জেরে এই অঞ্চলের বহু জমির প্লট আইনি মারপ্যাচে ইজারা বা লিজ প্রক্রিয়ার মধ্যে আটকে ছিল। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নতুন এই ব্যবস্থা কার্যকর হলে একা জয়পুরেই ৫,inputFields> ৫,০০০-এরও বেশি প্লটের মালিক সরাসরি আইনি স্বস্তি লাভ করবেন।

অন্যদিকে কোটা এবং ব্লু সিটি নামে পরিচিত যোধপুর শহরেও একই রকম সুফল পাওয়া যাবে। কোটার দ্রুত বর্ধমান নগর এলাকায় মহাসড়ক সংলগ্ন যেসব প্লট বা বাণিজ্যিক ভবন পুরোনো নিয়মের জেরে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে নিয়ন্ত্রিত ছিল না, সেগুলো এখন এই সংশোধিত পথচলার অধিকারের বদৌলতে আইনি জটিলতা থেকে চিরতরে মুক্তি পাবে। ইউডিএইচ-এর স্পষ্ট নির্দেশ অনুযায়ী, মহাসড়কের এই প্রস্থ পুনঃনির্ধারণের জন্য মূল মাস্টার প্ল্যানে আলাদা করে কোনো বড় ধরনের সংশোধনের প্রয়োজন পড়বে না। সংশ্লিষ্ট প্রবিধান ও উপযুক্ত কমিটি গঠনের মাধ্যমে খুব শীঘ্রই ইজারা ও প্রবিধানের কাজ সম্পন্ন করা হবে, যা রাজস্থানের আবাসন ক্ষেত্রে এক নতুন বিপ্লব আনতে চলেছে।