প্রযুক্তির সাহায্য থেকে ড্রোন তল্লাশি—সব চেষ্টা ব্যর্থ! দু’মাস পেরিয়ে গেলেও কি রহস্যেই থেকে যাবে জ্ঞানেশ্বরীর নিখোঁজ হওয়া?

শান্তির প্রতীক হিসেবে পরিচিত অন্ধ্রপ্রদেশের পূর্ব গোদাবরী জেলায় দুই বছরের শিশু জ্ঞানেশ্বরীর রহস্যজনক নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা আজ এক বড় প্রশ্নচিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ছোট্ট জ্ঞানেশ্বরীকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার ইতিমধ্যেই দুই মাস পেরিয়ে গিয়েছে। কিন্তু এত দিন কেটে যাওয়ার পরেও তদন্তকারী দল বা প্রযুক্তিগত সহায়তার মাধ্যমেও শিশুটির সন্ধানে সামান্যতম কোনো সূত্র পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া যায়নি। ড্রোন, স্নিফার ডগ এবং বিশাল পুলিশ বাহিনী দিয়ে বিস্তীর্ণ পাহাড়ি এলাকা ও পাম অয়েল বাগান চষে ফেলা হলেও ফলাফল সম্পূর্ণ শূন্য। এমন এক যন্ত্রণাদায়ক পরিস্থিতিতে ছোট্ট মেয়েটিকে ফিরে পাওয়ার আশা ধীরে ধীরে হারাতে বসেছেন তাঁর সর্বস্বান্ত বাবা-মা।

গত ৬ জুন, ২০২৬ দুপুরে একটি পাম অয়েল বাগান থেকেই রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিল দুই বছরের শিশু জ্ঞানেশ্বরী, যাকে পরিবারের সবাই আদর করে ‘জানু’ বলেও ডাকত। ঘটনার পর থেকেই বিশাল পুলিশবাহিনী, বিপর্যয় মোকাবিলা দল, ড্রোনের বহর, স্নিফার ডগ এবং শত শত স্বেচ্ছাসেবক বিস্তীর্ণ ফলের বাগান, প্ল্যান্টেশন এবং পাহাড়ি অঞ্চল জুড়ে চিরুনি তল্লাশি চালান। কিন্তু এত বিশাল কর্মযজ্ঞ সত্ত্বেও শিশুটির নাগাল পাওয়া যায়নি। জ্ঞানেশ্বরী আদতে পাহাড়ি জঙ্গলে হারিয়ে গিয়েছে, নাকি কেউ তাকে সুপরিকল্পিতভাবে অপহরণ করেছে কিংবা অন্য কোনো মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে—এই সমস্ত গুরুতর প্রশ্নের উত্তর আজও অজানা রয়ে গেছে।

এই মর্মান্তিক ঘটনার সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দিক হলো শিশুটির পোষ্য কুকুরটিকে কেন্দ্র করে। জ্ঞানেশ্বরী তার পোষ্য কুকুরটিকে ভীষণ ভালোবাসত, যা ওই শিশুটির সঙ্গেই নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিল এবং পরবর্তীতে অসুস্থ হয়ে মারাও যায়। মেয়ের সেই নিখাদ স্মৃতিকে বুকে আঁকড়ে ধরেই এবার এক অভাবনীয় পদক্ষেপ করেছেন জ্ঞানেশ্বরীর বাবা গণেশ ও মা ভবানী। তাঁরা সম্প্রতি বাড়িতে ঠিক একই নামের আরও একটি কুকুর নিয়ে এসেছেন এবং তার নাম রেখেছেন ‘জানু’। হারানো মেয়ের ছবি ওই কুকুরটির মধ্যে খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করে বাবা-মা এখন সেই শূন্য বুক নিয়ে প্রতিদিন বেঁচে থাকার এক অবর্ণনীয় লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।