ইরানের হিটলিস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প! তুরস্ক থেকে ফেরার পথে কেন নিয়েছিলেন চরম গোপনীয়তার আশ্রয়?

তাঁকে খুন করা হতে পারে বলে আশঙ্কা করেছিলেন খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের হিটলিস্টে তাঁর নাম থাকার কারণে মাসখানেক আগেই বিশ্ব রাজনীতিতে চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছিল। সেই সময় তুরস্ক থেকে আমেরিকা ফেরার পথে উপহার পাওয়া অত্যাধুনিক বিমানের বদলে প্রায় তিরিশ বছরের পুরনো একটি বিমানে যাতায়াত করে তীব্র কৌতূহল তৈরি করেছিলেন তিনি। ট্রাম্পের এই তড়িঘড়ি বিমান বদলের সিদ্ধান্ত সে সময় আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক তোলপাড় ফেলে দিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক এক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বিস্ফোরক প্রতিবেদনে ট্রাম্পের এই গোপন সফর ঘিরে আরও বহু রোমহর্ষক ও চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে।
ওয়াশিংটন পোস্টের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, সাধারণ মানুষের চোখ এড়াতে এবং কঠোর নিরাপত্তার স্বার্থে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে গোপনে একটি সামরিক বিমানে আমেরিকা সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। আঙ্কারায় ক্যামেরার সামনে প্রকাশ্যে পুরনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার অভিনয় করলেও, মূলত তাঁকে বিমানবন্দরের একটি ফুড ক্যাটারিং ট্রাকে লুকিয়ে অন্য একটি ছোট সামরিক বিমানের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। মার্কিন প্রশাসনের এক দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক এবং ট্রাম্পের ওই সফরের গোপন বিষয় সম্পর্কে ওয়াকিবহাল অপর এক ব্যক্তির বক্তব্যের ভিত্তিতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে ওই प्रतिष्ठित সংবাদমাধ্যমটি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যে বিমানটিতে ট্রাম্পকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল সেটি ছিল মার্কিন বিমান বাহিনীর অত্যন্ত সুরক্ষিত একটি সি-৩২এ (C-32A) বিমান। তুরস্ক থেকে রওনা হয়ে গোপন সেই বিমানটি প্রথমে ব্রিটেনের একটি বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করে। পরবর্তীতে নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী সেখানে পুরনো এয়ার ফোর্স ওয়ান এবং সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের বহনকারী বিমানটিও গিয়ে পৌঁছায়। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, ঠিক কী কারণে এতখানি গোপনীয়তা বজায় রেখে ট্রাম্পকে অন্য বিমানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল? ওয়াশিংটন পোস্টের দাবি অনুযায়ী, এর মূল নেপথ্যে ছিল ইরানের সরাসরি হুমকি। সে সময় ন্যাটোর একটি সম্মেলনে যোগ দিতে গিয়ে ইরানের সঙ্গে নতুন করে তীব্র সংঘর্ষের আবহ তৈরি হয়েছিল।
যদিও ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজে প্রকাশ্যে নিরাপত্তাজনিত কারণে বিমান বদল করার এই দাবি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। এর আগে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি নিজেই স্বীকার করেছিলেন যে তিনি ইরানের হিট লিস্টে একেবারে শীর্ষে রয়েছেন। সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেছিলেন যে তাঁদের জীবনও সমান ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে কারণ তাঁকে সবসময় চরম হুমকির মুখে থাকতে হয়। তবে সেই সময়ে তিনি জনসমক্ষে দাবি করেছিলেন যে ৩০ বছরের পুরনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে চড়ার মাধ্যমে তিনি শুধুমাত্র পুরোনো দিনের স্মৃতিই ফিরিয়ে আনতে চেয়েছিলেন।