১৮ জুলাই অমিত শাহের বিশেষ বৈঠক উত্তরবঙ্গে, সীমান্ত সুরক্ষায় নেওয়া হতে পারে বড় কোনো সিদ্ধান্ত!

সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও সুদৃঢ় করতে আগামী ১৮ জুলাই উত্তরবঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বিশেষ বৈঠকের ডাক দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সূত্রের খবর, ১৭ জুলাই রাতেই রাজ্যে পৌঁছে যাবেন তিনি। উত্তরকন্যার সম্ভাব্য এই বৈঠককে ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তৈরি হয়েছে ব্যাপক জল্পনা। এই বৈঠকে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বিএসএফ-এর বিভিন্ন আউটপোস্টের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অনুপ্রবেশ রুখতে বিশেষ কর্মপদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বৈঠকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে কারণ এতে উপস্থিত থাকবেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা। এছাড়াও নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো ও কেন্দ্রের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের পাশাপাশি সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের তলব করা হয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তার প্রতিটি স্তরকে আরও সুরক্ষিত করে তোলাই এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য বলে জানা গেছে।
ইতিমধ্যেই রাজ্য ও কেন্দ্র যৌথভাবে সীমান্ত সুরক্ষা জোরদারে বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে। রাজ্যের তরফে জানানো হয়েছে, সীমান্ত সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিএসএফ-কে দ্রুত জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শেষ করা হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১,০২৪.৭৫ একর জমি আনুষ্ঠানিকভাবে বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এই জমিতে মোট ১৭২.৬ কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করা হবে, যা সীমান্ত এলাকায় নজরদারি ও অনুপ্রবেশ রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
সম্প্রতি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন সুন্দরবনের দুর্গম উপকূলীয় অঞ্চল ও পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলো পরিদর্শন করেছেন বিএসএফ-এর ডিজি প্রবীণ কুমার। সেখানে তিনি সীমান্ত সুরক্ষার প্রস্তুতি ও বেড়া নির্মাণের কাজের অগ্রগতি সরাসরি খতিয়ে দেখেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে জনসংযোগমূলক বৈঠকে তিনি সাধারণ মানুষের সহযোগিতা ও বিএসএফ-এর যৌথ প্রচেষ্টার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তরবঙ্গে অমিত শাহের এই সফর ও বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে শান্তি বজায় রাখা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করা এই বৈঠকের আলোচ্য সূচীর শীর্ষে থাকবে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এই আলোচনা সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। একদিকে বিএসএফ-এর নতুন পরিকাঠামো এবং অন্যদিকে কেন্দ্রের নীতিনির্ধারণী এই বৈঠক দেশের সুরক্ষায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হতে যাচ্ছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।