মানবিকতার প্রতীক দেব, প্রচারের আলো এড়িয়ে নিঃশব্দে ক্যান্সারে আক্রান্ত বৃদ্ধের পাশে তারকা সাংসদ

তিনি শুধু রুপোলি পর্দার সুপারস্টার বা দায়িত্ববান সাংসদ নন— তিনি একজন মানবিক হৃদয়ের প্রতিনিধি। পুজোর এই আনন্দময় মুহূর্তেও জনপ্রিয় নায়ক দেবের (Dev) সেই মানবিক মুখটিই সামনে এল, যখন তিনি নিঃশব্দে, প্রচারের আলো থেকে দূরে সরে, ক্যান্সারে আক্রান্ত এক অসহায় বৃদ্ধের পাশে দাঁড়ালেন।
ঘটনাটি ঘটে মহাপঞ্চমীর দুপুরে। উত্তর কলকাতার একটি পূজামণ্ডপের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন ৭৫ বছর বয়সী চিরঞ্জিৎ সেনগুপ্ত। একসময় হাতিবাগানে ফল বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। হাতে একটি ছোট প্ল্যাকার্ড, তাতে লেখা সাহায্যের আবেদন।
এক অসহায় দাদুর করুণ কাহিনি
কয়েক বছর আগে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে চিরঞ্জিৎবাবু একে একে হারিয়ে ফেলেন তাঁর স্ত্রী ও পুত্রকে। মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে আত্মহননের কথাও ভেবেছিলেন তিনি। কিন্তু একরত্তি নাতনির মুখের দিকে তাকিয়ে পিছিয়ে আসেন। তিনিই এখন তাঁর জীবনের একমাত্র আশ্রয়।
এরপর আসে আরও এক নির্মম ধাক্কা— চিরঞ্জিৎবাবুর শরীরে ধরা পড়ে ক্যান্সার। চিকিৎসা করার মতো কোনো অর্থ, আত্মীয়স্বজন বা সহায়-সম্বল তাঁর নেই। নাতনির মুখে অন্ন জোটানো এবং নিজের চিকিৎসার জন্য নিরুপায় হয়েই তিনি কলকাতার ব্যস্ত হাতিবাগান চত্বরে সাধারণ মানুষের কাছে সাহায্যের আবেদন জানান।
ভাইরাল ছবি দেখেই ছুটে গেলেন দেব
চিরঞ্জিৎবাবুর সেই করুণ মুহূর্তের ছবি ধরা পড়ে এক পথচারীর মোবাইল ক্যামেরায়। মুহূর্তেই ছবিটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে মানুষের আবেগে তীব্র নাড়া দেয়। এই ভাইরাল ছবিটিই চোখে পড়ে অভিনেতা দেবের।
কোনও প্রচার ছাড়াই, সম্পূর্ণ নিঃশব্দে এবং ব্যক্তিগতভাবে দেব সেই বৃদ্ধের খোঁজ নেন। দ্রুত পৌঁছে যান তাঁর কাছে এবং হাতে তুলে দেন প্রয়োজনীয় অর্থ সাহায্য।
আজকের দিনে যেখানে অনেকেই সমাজসেবার নামে ক্যামেরার সামনে ‘পোজ’ দেন, সেখানে দেবের এই নিঃশব্দ সহানুভূতি সত্যিই বিরল। তাঁর এই পদক্ষেপ প্রমাণ করে, তিনি শুধু টাকা দিয়ে সাহায্য করেননি, বরং দিয়েছেন সম্মান ও ভরসা।
সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশংসার ঝড়
দেবের এই মানবিক কাজের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর প্রশংসায় ঝড় ওঠে। ভক্তরা লেখেন, “দেব শুধু একজন অভিনেতা নন, তিনি এক যোদ্ধা— যিনি নিঃশব্দে, বিনা প্রচারে মানুষের পাশে দাঁড়ান।” কেউ কেউ তাঁকে বাস্তব জীবনের ‘হিরো’ বলেও আখ্যা দেন।
দেবের এই পদক্ষেপ চিরঞ্জিৎবাবুর জীবনে আবার আশার আলো এনে দিয়েছে। কৃতজ্ঞতা ভরা কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমি ভাবিনি কেউ পাশে দাঁড়াবে। দেবের জন্য আবার বাঁচতে ইচ্ছা করছে।” এই ঘটনা আমাদের আবারও মনে করিয়ে দেয় যে, মানবিকতা এখনও হারিয়ে যায়নি।