এবার টার্বো ইঞ্জিনের সঙ্গে অ্যাডভান্সড সেফটি ফিচার, মারুতি ব্রেজা ২০২৬-এর অপেক্ষায় গাড়ি প্রেমীরা

ভারতের অটোমোবাইল বাজারে ফের একবার তোলপাড় সৃষ্টি করতে প্রস্তুত দেশের বৃহত্তম গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মারুতি সুজুকি। আগামী ২৩শে জুলাই, ২০২৬ সালে সংস্থাটি তাদের অত্যন্ত জনপ্রিয় কমপ্যাক্ট এসইউভি, ‘নতুন মারুতি ব্রেজা ২০২৬’ আনুষ্ঠানিকভাবে বাজারে আনতে চলেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নতুন এই মডেলটি লঞ্চের ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই গাড়ি প্রেমীদের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে। আগের মডেলের তুলনায় নতুন ব্রেজায় থাকছে ডিজাইনের নতুনত্ব, প্রিমিয়াম ইন্টেরিয়র এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়।
নতুন ব্রেজার সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিকটি হলো এর ইঞ্জিন ক্ষমতা। প্রথমবারের মতো এই মডেলে যুক্ত হতে চলেছে ১.০-লিটার বুস্টারজেট টার্বো-পেট্রোল ইঞ্জিন, যা মারুতি ফ্রন্টস-এর সাফল্যের পর ব্রেজাতেও ব্যবহৃত হবে। এই ইঞ্জিনটি প্রায় ১০০ বিএইচপি শক্তি এবং ১৪৭ এনএম টর্ক উৎপন্ন করতে সক্ষম। পাশাপাশি, এতে নতুন ৬-স্পিড ম্যানুয়াল গিয়ারবক্সের বিকল্প থাকবে। ইঞ্জিনের নতুন বিন্যাসের কারণে ১৮ শতাংশ জিএসটি কাঠামোতে গাড়িটি থাকায় এর দাম ক্রেতাদের নাগালের মধ্যেই থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে এন্ট্রি-লেভেল ভ্যারিয়েন্টগুলোতে আগের সেই বিশ্বস্ত ১.৫-লিটার ন্যাচারালি অ্যাসপিরেটেড ইঞ্জিনটিও বজায় রাখা হয়েছে, যেখানে ৫-স্পিড ম্যানুয়াল এবং ৬-স্পিড অটোমেটিক গিয়ারবক্সের সুবিধা পাওয়া যাবে।
সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর সিএনজি ব্যবহারকারীদের জন্য। নতুন ব্রেজায় সিএনজি সিলিন্ডারটি সরাসরি বডির নিচে বা আন্ডারবডিতে স্থাপন করা হচ্ছে। এর ফলে গাড়ির বুট স্পেস বা লাগেজ রাখার জায়গা আগের চেয়ে অনেকটাই বেড়ে যাবে, যা দীর্ঘ যাত্রার জন্য অত্যন্ত উপযোগী। ইন্টেরিয়রের ক্ষেত্রেও থাকছে প্রিমিয়াম আমেজ। গাড়ির কেবিনে ১০.১-ইঞ্চি বড় টাচস্ক্রিন ইনফোটেইনমেন্ট সিস্টেম, ভেন্টিলেটেড ফ্রন্ট সিট, পাওয়ার-অ্যাডজাস্টেবল ড্রাইভারের সিট এবং অ্যাম্বিয়েন্ট লাইটিং-এর মতো লাক্সারি ফিচার যুক্ত করা হয়েছে।
নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে মারুতি ব্রেজা ২০২৬-এ প্রথমবারের মতো যুক্ত হতে যাচ্ছে লেভেল-২ ADAS প্রযুক্তি। এই উন্নত ফিচারটি সংঘর্ষ এড়ানো, লেন কিপিং এবং ড্রাইভার অ্যাসিস্ট্যান্সের মাধ্যমে যাত্রীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে। ডিজাইনের ক্ষেত্রেও এসেছে আমূল পরিবর্তন—কানেক্টেড এলইডি টেইললাইট, আধুনিক ফ্রন্ট গ্রিল, রিফাইনড বাম্পার এবং নতুন ৪-স্পোক অ্যালয় হুইল গাড়িটিকে আরও স্টাইলিশ এবং প্রিমিয়াম লুক দিয়েছে। বর্তমানে ব্রেজার এক্স-শোরুম মূল্য ৮.২৬ লক্ষ থেকে ১২.৮৬ লক্ষ টাকার মধ্যে। নতুন মডেলে অনেক বেশি প্রযুক্তি ও ফিচার থাকায় দাম সামান্য বাড়তে পারে। বাজারে টাটা নেক্সন, কিয়া সনেট, হুন্ডাই ভেন্যু এবং মাহিন্দ্রা এক্সইউভি ৩এক্সও-এর মতো শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীদের সাথে পাল্লা দিতে মারুতি তাদের এই নতুন এসইউভি নিয়ে যথেষ্ট আশাবাদী। ২৩শে জুলাই থেকে ভারতীয় এসইউভি বাজারের সমীকরণ বদলে দিতে তৈরি মারুতি ব্রেজা ২০২৬।