‘মানুষের মানবাধিকার সুনিশ্চিত করুন’, ডিম ছোড়ার ঘটনায় রাজ্যকে হলফনামা পেশের নির্দেশ আদালতের

তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-কর্মীদের নিশানা করে লাগাতার ‘ডিম ছোড়া’র ঘটনার জেরে রাজ্য পুলিশি প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে এবার সরব হলো কলকাতা হাইকোর্ট। মঙ্গলবার এক গুরুত্বপূর্ণ শুনানিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি পার্থ সারথি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, রাজ্যে এই ধরনের আক্রমণাত্মক ঘটনা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। রাজ্যকে হলফনামা-সহ বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে বলেছে আদালত। পরবর্তী শুনানি ২০ জুলাই।

গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া ও হেনস্থার অভিযোগ উঠছে। এই তালিকায় বাদ যাননি খোদ দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। এই আবহে দানিশ ফারুকি নামে এক আইনজীবী হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন।

এদিনের শুনানিতে মামলাকারীর পক্ষে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার কারণেই এই ধরনের ঘটনা ঘটছে। তিনি দাবি করেন, মব লিঞ্চিংয়ের মতো ঘটনায় পুলিশ পরোক্ষভাবে উৎসাহ দিচ্ছে। বিরোধী দলের বিধায়কদের উপস্থিতি ও পুলিশের সামনেই এই ধরনের আক্রমণ চালানো হচ্ছে বলেও তিনি সরব হন। তিনি অবিলম্বে অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশের আবেদন জানালে আদালত তা খারিজ করে দেয়, তবে রাজ্যকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, রাজ্যের পক্ষে অ্যাডিশনাল অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার দাবি করেন, রাজ্য সরকার কোনোভাবেই এই ধরনের আইনভঙ্গকারী ঘটনা সমর্থন করে না। তিনি জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে পুলিশ যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছে। তবে বিচারপতিরা এদিনের পর্যবেক্ষণে বলেন, “এটি শুধু আইন প্রয়োগের বিষয় নয়, সাধারণ মানুষকে সচেতন করার বিষয়।”

হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ পুলিশ কমিশনার ও ডিজিপিকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, প্রতিটি থানার জন্য একটি নির্দিষ্ট গাইডলাইন তৈরি করতে হবে। যাতে ভবিষ্যতে এই ধরনের আক্রমণ রুখতে পুলিশ কমিশনারের নির্দেশ অনুযায়ী প্রতিটি থানা সতর্ক থাকে এবং নাগরিকদের মানবাধিকার ও সুরক্ষা সুনিশ্চিত করা যায়। আদালতে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আরও উল্লেখ করেন যে, রাজ্যের বিশেষ করে এয়ারপোর্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতেও সাধারণ মানুষকে ঘিরে ধরে হেনস্থা করা হচ্ছে।

আদালতের এই নির্দেশ রাজনৈতিক মহলে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, ২০ জুলাইয়ের শুনানিতে রাজ্য সরকার হলফনামার মাধ্যমে কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে এবং পুলিশের তৈরি গাইডলাইন এই ক্রমবর্ধমান ‘ডিম ছোড়ার সংস্কৃতি’ রুখতে কতটা কার্যকর হয়।