“মহাপ্রলয়ের বড় হুঁশিয়ারি!”-নন্দী মহারাজের পাথুরে মূর্তি জীবন্ত হওয়ার রহস্য লুকিয়ে কোথায়?

সনাতন ধর্মে যুগ বিভাজনের ইতিহাসে সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর ও কলি—এই চার যুগের উল্লেখ রয়েছে। বর্তমানে গোটা বিশ্ব জুড়ে চলছে কলিযুগ, যাকে পুরাণে সবচেয়ে বেশি অধর্ম, কপটতা ও মিথ্যার যুগ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। কিন্তু এই কলিযুগের অবসান ও মহাপ্রলয়ের কি কোনো স্পষ্ট সংকেত মিলছে? হিন্দু ধর্মে মহাদেব শিবের বাহন নন্দী মহারাজকে ঘিরে প্রচলিত একটি আশ্চর্য রহস্যময় মূর্তির কাহিনী ঘিরে বর্তমানে চাঞ্চল্য তুঙ্গে।

দিন দিন আকৃতি বাড়ছে নন্দী মূর্তির

অন্ধ্রপ্রদেশের কুর্নুল (Kurnool) জেলার একটি প্রাচীন মন্দিরে রয়েছে নন্দীদেবের এক অদ্ভুত ও অলৌকিক মূর্তি। এই মূর্তিটিকে ঘিরেই দানা বেঁধেছে সবচেয়ে বড় রহস্য। ধর্মীয় বিশ্বাস এবং স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী, এই নন্দী মূর্তির আকার ও আয়তন ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতি ২০ বছরে এই মূর্তির আকৃতি প্রায় ১ ইঞ্চি করে বেড়ে যায়!

একসময় এই মূর্তিটি এতটাই ক্ষুদ্র ছিল যে ভক্তরা সহজেই তা প্রদক্ষিণ করতে পারতেন। কিন্তু বর্তমানে তা এতটাই বড় হয়ে গিয়েছে যে, মন্দিরের নির্দিষ্ট পরিসরও যেন তার কাছে ছোট হয়ে আসছে।

কী বলছে বিজ্ঞান আর ধর্মীয় বিশ্বাস?

  • পৌরাণিক বিশ্বাস: হিন্দু শাস্ত্র ও বিশ্বাস অনুসারে, কলিযুগের সমাপ্তির দিনে এই পাথরের নন্দী মূর্তিটি জীবন্ত হয়ে উঠবে। আর ঠিক সেই দিনই পৃথিবীতে আসবে চূড়ান্ত মহাপ্রলয়। তবে এই ঘটনা ঠিক কবে ঘটবে, তার নির্দিষ্ট কোনো কাল বা সময়কাল শাস্ত্রে উল্লেখ নেই।

  • বিজ্ঞানীদের মতামত: এই অদ্ভুত পাথরটি নিয়ে বিজ্ঞানীরা বহুবার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন। তাঁদের মতে, মূর্তিটি এমন এক বিশেষ ধরনের শিলা দিয়ে তৈরি, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রাকৃতিক নিয়মে সম্প্রসারিত হতে পারে। যার ফলেই এর আকার ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

রহস্যে ঘেরা এই মন্দির চত্বর

শুধু নন্দী মূর্তির বৃদ্ধিই নয়, এই মন্দির চত্বর সম্পর্কে আরও কিছু অবিশ্বাস্য তথ্য প্রচলিত রয়েছে:

  1. অমর জলের ধারা: মন্দির চত্বরের ভেতরে ‘পুষ্পরিনী কুণ্ড’ নামে একটি ছোট পুকুর রয়েছে। বিশ্বাস করা হয়, মন্দিরের নন্দীর মুখ থেকে অবিরাম জল এসে এই পুকুরে পড়ে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই জলের উৎস কোথায় বা কোথা থেকে এই জল আসছে, তা আজ পর্যন্ত কেউ জানতে পারেননি। বিজ্ঞানীরাও এই রহস্যের সমাধান করতে পারেননি। কিংবদন্তি রয়েছে, প্রাচীনকালে ঋষি অগস্ত্য এই পুকুরে স্নান করে মহাদেবের পুজো করেছিলেন এবং এখানে নন্দীকে স্থাপন করেছিলেন।

  2. কাকের অনুপস্থিতি: এই মন্দিরের সবচেয়ে বড় রহস্য হলো, এখানে কখনোই কোনো কাকের দেখা মেলে না। অন্যান্য পাখি আসলেও কাকের প্রবেশ নিষিদ্ধ। বিশ্বাস করা হয়, ঋষি অগস্ত্য যখন এখানে তপস্যা করছিলেন, তখন কাকেরা তাঁর ধ্যানে বিঘ্ন ঘটায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ঋষি অভিশাপ দেন যে, এরপর থেকে এই মন্দির চত্বরে কোনো কাক প্রবেশ করতে পারবে না।

মহাপ্রলয়ের অন্য এক প্রতীক: মৃদেশ্বরের শিবলিঙ্গ

শুধু কুর্নুলের নন্দী মূর্তিই নয়, গুজরাতের মৃদেশ্বর মন্দিরে থাকা একটি বিশেষ শিবলিঙ্গকেও কলিযুগের শেষের প্রতীক হিসেবে গণ্য করা হয়। বিশ্বাস করা হয়, এই শিবলিঙ্গের আকারও ক্রমাগত বাড়ছে, যা পৃথিবীতে মানুষের ক্রমবর্ধমান পাপের প্রতীক। কিংবদন্তি বলে, যেদিন এই শিবলিঙ্গ ৮০ ফুট লম্বা হয়ে মন্দিরের ছাদ স্পর্শ করবে, সেদিনই কলিযুগ তার অন্তিম পর্যায়ে পৌঁছবে। তবে এর বৃদ্ধির হার অত্যন্ত ধীর (প্রতি বছর মাত্র একটি ধানের দানার সমান), যার ফলে এই উচ্চতায় পৌঁছাতে লক্ষ লক্ষ বছর সময় লাগতে পারে।

বিজ্ঞান এবং বিশ্বাসের এই দোলাচলে কুর্নুলের এই নন্দী মূর্তি এবং তার অলৌকিক ঘটনা আজও কোটি কোটি মানুষকে বিস্মিত করে চলেছে।