কঠোর পরিশ্রম আর অদম্য ইচ্ছাশক্তি থাকলে যে পাথুরে বা অনুর্বর জমিতেও সোনার ফসল ফলানো সম্ভব, তা প্রমাণ করে দিলেন ঝাড়খণ্ডের দেওঘর জেলার কোঠিয়া গ্রামের কৃষক অনিল যাদব। একসময় যে ৫ একর জমি পড়ে থাকত আগাছায় ভরা এবং চাষের অনুপযুক্ত হিসেবে, আজ সেই জমি থেকেই বছরে ৫ থেকে ৬ লক্ষ টাকা নিশ্চিত আয় করছেন তিনি। অনিল যাদবের এই সাফল্যের কাহিনী আজ ঝাড়খণ্ডের গণ্ডি ছাড়িয়ে দেশের অন্য প্রান্তের কৃষকদের কাছেও এক বড় অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অনিল যাদব চিরাচরিত চাষাবাদের পদ্ধতি ছেড়ে উদ্যানপালন বা হর্টিকালচারকে বেছে নিয়েছিলেন। ২০১৭ সালে তিনি জাতীয় উদ্যানপালন মিশনের আওতায় নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের লড়াই শুরু করেন। তিনি তাঁর জমিতে মালদা, আম্রপালি, মল্লিকা এবং হিমসাগরের মতো উন্নত মানের প্রায় ৭০০টি আমের চারা রোপণ করেন। শুধু আমই নয়, বৈচিত্র্য আনতে তিনি ১৫০টি পেয়ারা গাছও লাগিয়েছেন। তবে এই সাফল্যের পিছনে ছিল আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক মেলবন্ধন। তিনি প্রথাগত সেচ পদ্ধতির বদলে ‘ড্রিপ ইরিগেশন’ বা বিন্দু সেচ পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন, যা জলের অপচয় রোধ করে সরাসরি গাছের গোড়ায় পুষ্টি পৌঁছে দেয়। এছাড়া তিনি ‘হাই-ডেনসিটি প্লান্টিং’ বা উচ্চ-ঘনত্ব রোপণ এবং আন্তঃফসল চাষের (Intercropping) মতো কৌশল অবলম্বন করেছেন।
অনিল জানান, আমের মরসুম শেষ হওয়ার পর পেয়ারা থেকে তাঁর অতিরিক্ত আয় আসে, যা সারা বছর আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখে। তাঁর মতে, কৃষকদের কেবল চাষ করলেই হবে না, বাজারের চাহিদা বুঝে ফসলের বৈচিত্র্য আনতে হবে। আজ পরিস্থিতি এমন যে, দেওঘরের এই দুর্গম গ্রামের বাগান দেখতে এবং চাষের খুঁটিনাটি শিখতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন। সরকারি প্রকল্পের সঠিক ব্যবহার এবং আধুনিক মানসিকতা কীভাবে একজন সাধারণ কৃষককে স্বনির্ভর করে তুলতে পারে, অনিল যাদব তার এক জীবন্ত উদাহরণ।





