ভোট পরবর্তী উত্তপ্ত রাজনীতির আবহে যখন রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে অশান্তি আর কার্যালয় দখলের অভিযোগ উঠছে, ঠিক তখনই এক বিরল সৌজন্যের সাক্ষী থাকল সোনারপুর। জয়ের উল্লাসে মেতে না উঠে, বরং প্রতিপক্ষ দলের কার্যালয় সসম্মানে ফিরিয়ে দিয়ে রাজনীতির আঙিনায় নতুন নজির গড়ল স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব।
ঘটনার প্রেক্ষাপট বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার বিভিন্ন এলাকায়। গত কয়েক বছরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ‘দখল আর পাল্টা দখল’ ছিল এক পরিচিত ছবি। অনেক জায়গাতেই অভিযোগ উঠেছে, ক্ষমতা বদলের সাথে সাথেই এক দলের কার্যালয় অন্য দল দখল করে নিচ্ছে। কিন্তু সোনারপুরের ক্ষেত্রে দেখা গেল সম্পূর্ণ উল্টো চিত্র।
বিজেপির সৌজন্য বার্তা স্থানীয় সূত্রে খবর, সোনারপুরের একটি এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের একটি দলীয় কার্যালয় বিজেপির দখলে চলে এসেছিল বলে অভিযোগ ওঠে। কিন্তু এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রাখতে এগিয়ে আসে গেরুয়া শিবিরের নেতৃত্ব। বিজেপি কর্মীদের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, তাঁরা দখলের রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না। এরপরেই কার্যালয়টি ফের তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্বের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
তাজা বাতাসের আমেজ বিজেপির এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এলাকার সাধারণ মানুষ। স্থানীয় এক বিজেপি নেতার কথায়, “আমরা মানুষের সমর্থন পেয়ে জিতেছি, অফিস দখল করে আমাদের বড় হতে হবে না। আমরা চাই সবাই মিলে শান্তিতে এলাকায় উন্নয়ন করি।” অন্যদিকে, তৃণমূলের পক্ষ থেকেও এই সৌজন্যকে স্বাগত জানানো হয়েছে। বিরোধীরাও মনে করছেন, রাজ্যে যখন বিভিন্ন জায়গায় সংঘাতের খবর আসছে, তখন সোনারপুরের এই ‘সুইট জেসচার’ বা সৌজন্যের রাজনীতি আগামীর জন্য একটি সদর্থক বার্তা।
উপসংহার বদল হয়েছে মসনদে, কিন্তু সোনারপুরের এই ঘটনা প্রমাণ করল যে সুস্থ রাজনীতি এখনও হারিয়ে যায়নি। হিংসার বদলে হাত বাড়িয়ে দেওয়ার এই মানসিকতা যদি গোটা রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ে, তবে বাংলার রাজনৈতিক সংস্কৃতি এক নতুন উচ্চতা ছোঁবে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। ডেইলিয়ান্ট-এর পাঠকদের জন্য সোনারপুরের এই খবরটি আজ এক ঝলক টাটকা বাতাসের মতোই স্বস্তির।





