“টাকা যেত অভিষেকের অফিসেও!”— হারের পরেই বিস্ফোরক তৃণমূলের নাড়ুগোপাল, ফাঁস করলেন দলের অন্দরের গোপন কাণ্ড!

বিধানসভা নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে জমে থাকা ক্ষোভের আগ্নেয়গিরি এবার ফাটতে শুরু করেছে। এবার সরাসরি দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং ‘অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিস’-এর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় ফেলে দিলেন তৃণমূল নেতা নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায়। সাংবাদিক বৈঠকে তাঁর একের পর এক মন্তব্য এখন শাসক দলের অস্বস্তি বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েক গুণ।

অভিষেকের অফিসের দিকে আঙুল নির্বাচনী ফলাফলে বিপর্যয়ের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে নাড়ুগোপালবাবু দাবি করেন, দলের নিচুতলার কর্মীদের ওপর যে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে, তার দায় আসলে ওপরতলার। তাঁর সাফ কথা, “শুধু নিচুতলায় নয়, কাটমানি আর তোলাবাজির টাকা নিয়মিত মাসোহারা হিসেবে পৌঁছে যেত অভিষেকের অফিসেও।” হারের পর দলের কোনো নেতার মুখ থেকে সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসকে নিশানা করার ঘটনা সাম্প্রতিককালে নজিরবিহীন।

কাটমানি ও তোলাবাজির থাবা নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায়ের মতে, সাধারণ মানুষ তৃণমূলের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে মূলত লাগামহীন দুর্নীতির কারণে। তিনি অভিযোগ করেন, এলাকার উন্নয়নের চেয়েও সিন্ডিকেট আর তোলাবাজিতেই বেশি মগ্ন ছিলেন এক শ্রেণির নেতারা। সেই টাকার ভাগ কীভাবে ওপরতলায় পৌঁছাত, তার এক বিস্ফোরক চিত্র তিনি এ দিন সংবাদমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, এই ‘কাটমানি কালচার’ই এবারের ভোটে তৃণমূলের কফিনে শেষ পেরেক পুঁতে দিয়েছে।

অন্দরের বিদ্রোহ প্রকাশ্যে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নাড়ুগোপালের এই আক্রমণ আসলে তৃণমূলের অন্দরে শুরু হওয়া এক বড়সড় বিদ্রোহের ইঙ্গিত। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আশঙ্কায় এখন দলের অনেক নেতাই দায় ঝেড়ে ফেলতে চাইছেন এবং দায় চাপাচ্ছেন শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম জড়িয়ে এই আক্রমণ দলের শৃঙ্খলারক্ষাকারী কমিটির জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াল।

তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া যদিও নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায়ের এই অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ এবং ‘পরাজয়ের হতাশা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে তৃণমূলের একাংশ। তবে প্রকাশ্যে দলের এমন প্রবীণ নেতার এই মন্তব্য যে আমজনতার মনে দলের ভাবমূর্তিকে আরও কালিমালিপ্ত করল, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

এখন দেখার, এই বিস্ফোরক মন্তব্যের পর নাড়ুগোপালের বিরুদ্ধে দল কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেয়, নাকি তাঁর হাত ধরে তৃণমূলের অন্দরে আরও বড় কোনো বিদ্রোহের সূত্রপাত হয়। বাংলার রাজনীতিতে এখন সবথেকে বড় প্রশ্ন— মাসোহারা যাওয়ার এই অভিযোগ কি তবে তাসের ঘরের মতো ভেঙে দেবে ঘাসফুল শিবিরকে?

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy