দৃষ্টিহীনদেরও ভোটের ডিউটি! কমিশনের তুঘলকি সিদ্ধান্তে নজিরবিহীন হস্তক্ষেপ হাইকোর্টের, বড় স্বস্তি শিক্ষকদের

লোকসভা নির্বাচনের আবহে এবার নির্বাচন কমিশনের একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্তের ওপর বড়সড় স্থগিতাদেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। দৃষ্টিহীন শিক্ষকদের নির্বাচনী কাজে যোগ না দেওয়ার কারণে শো-কজ করার ঘটনায় রীতিমতো উষ্মা প্রকাশ করেছে আদালত। কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে পুনর্বিবেচনা করার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতিরা।

ঘটনার সূত্রপাত নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকজন দৃষ্টিহীন শিক্ষককে ভোটের ডিউটি দেওয়া হয়েছিল। শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে ওই শিক্ষকরা কাজে যোগ দিতে পারেননি। অভিযোগ উঠেছে, কাজে উপস্থিত না হওয়ার কারণ দর্শিয়ে কমিশন ওই দৃষ্টিহীন শিক্ষকদের শোকজ নোটিশ পাঠায়। কমিশনের এই ‘অমানবিক’ পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ হয়ে ন্যায়বিচারের আশায় কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন আক্রান্ত শিক্ষকরা।

হাইকোর্টের কড়া পর্যবেক্ষণ শুক্রবার প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথী সেনের ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। শুনানি চলাকালীন আদালত বিস্ময় প্রকাশ করে যে, একজন দৃষ্টিহীন মানুষকে কীভাবে ভোটের মতো অত্যন্ত জটিল এবং দায়িত্বপূর্ণ কাজের জন্য মনোনীত করা হলো। আদালত স্পষ্ট জানায়, বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা প্রয়োজন।

কমিশনকে নির্দেশ প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছে যে, দৃষ্টিহীন শিক্ষকদের পাঠানো ওই শো-কজ নোটিশের সিদ্ধান্ত যেন দ্রুত পুনর্বিবেচনা করা হয়। একইসঙ্গে আদালত জানিয়েছে, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও তাঁদের কেন এই কাজে বাধ্য করা হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখতে হবে। এই নির্দেশের ফলে আপাতত বড়সড় স্বস্তি পেলেন ওই শিক্ষকরা।

জনসাধারণের প্রতিক্রিয়া কমিশনের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন শিক্ষক মহলের একাংশ। তাঁদের মতে, নির্বাচনের কাজে প্রশিক্ষিত কর্মীর প্রয়োজন ঠিকই, কিন্তু শারীরিক অক্ষমতাকে গুরুত্ব না দিয়ে এভাবে শো-কজ করা প্রশাসনিক অদূরদর্শিতারই পরিচয়। হাইকোর্টের এই হস্তক্ষেপকে গণতন্ত্রের জয় হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্ট পক্ষ।

ভোটের উত্তপ্ত আবহে আদালতের এই ‘মানবিক’ রায় আগামী দিনে কমিশনের কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে বড় নজির হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ডেইলিয়ান্ট-এর পাঠকদের জন্য এটি একটি বড় স্বস্তির খবর।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy