মধ্যপ্রদেশের রতলাম জেলার ছোট্ট এক জনপদ থেকে উঠে এল এমন এক প্রতিভা, যা দেখে আজ গোটা ভারত ধন্য ধন্য করছে। মাত্র ৩ বছর বয়স—যখন সমবয়সীরা ঠিকমতো কথা বলতেই হিমশিম খায়, তখন জাহ্নবী সোনি নিজের তুখোড় স্মৃতিশক্তি দিয়ে গড়ে ফেলেছে একের পর এক বিশ্ব রেকর্ড। মাত্র আট মাসের ব্যবধানে দুটি ইন্টারন্যাশনাল ওয়ার্ল্ড রেকর্ড নিজের ঝুলিতে পুরে নিয়েছে এই বিস্ময় বালিকা।
শিব তাণ্ডব থেকে হনুমান চালিসা—সবই নখদর্পণে
জাহ্নবীর সাম্প্রতিকতম বিশ্ব রেকর্ডটি হল ‘শিব তাণ্ডব স্তোত্রম’। অত্যন্ত কঠিন এবং দ্রুত উচ্চারণের এই স্তোত্রটি সে মাত্র ২ মিনিট ৪৯ সেকেন্ডে সম্পূর্ণ করে বিশ্বকে অবাক করে দিয়েছে। তবে এটিই তার প্রথম চমক নয়। এর আগে গত ১ সেপ্টেম্বর সে মাত্র ২ মিনিট ৪০ সেকেন্ডে গড়গড় করে হনুমান চালিসা আবৃত্তি করে ‘লন্ডন বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস’ এবং ‘ওয়েব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে’ নিজের নাম খোদাই করেছিল। তার এই অবিশ্বাস্য কীর্তি এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল।
পরিবারের নিষ্ঠা ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন
এই অসামান্য সাফল্যের কারিগর হলেন জাহ্নবীর মা জয়া সোনি এবং দিদিমা ঊর্মিলা দেবী সোনি। জয়া দেবী জানান, জাহ্নবী কথা বলা শেখার পর থেকেই কোনো শব্দ শুনলে তা তৎক্ষণাৎ মুখস্থ করে ফেলত। দিদিমা ও মা প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাকে শ্লোক ও স্তোত্র অভ্যাস করাতেন। জাহ্নবীর বাবা নরেন্দ্র সোনি একজন শিল্পী, তিনি সবসময় বাড়িতে একটি সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক পরিবেশ বজায় রাখতেন। পরিবারের এই ইতিবাচক পরিবেশই ছোট্ট জাহ্নবীকে বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দিয়েছে।
শিবরাজ সিং চৌহান ও বিশিষ্টজনদের প্রশংসা
জাহ্নবীর এই মেধার খবর পৌঁছে গিয়েছে দিল্লির ক্ষমতার অলিন্দেও। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান এই খুদেকে ভোপালে নিজের বাসভবনে আমন্ত্রণ জানান। জাহ্নবীর আবৃত্তি শুনে তিনি এতটাই মুগ্ধ হন যে তাকে নিজের কোলে বসিয়ে আশীর্বাদ করেন। অন্যদিকে, মধ্যপ্রদেশের উপ-মুখ্যমন্ত্রী জগদীশ দেওরা জাহ্নবীর স্মৃতিশক্তির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন এবং তাকে নগদ পুরস্কার দিয়ে সম্মানিত করেছেন।
আগামী লক্ষ্য: রামচরিতমানস ও মহিষাসুরমর্দিনী
জোড়া বিশ্ব রেকর্ড গড়ার পর জাহ্নবী থেমে থাকতে রাজি নয়। বর্তমানে সে একটি বেসরকারি স্কুলের জুনিয়র ক্লাসে পড়ছে। তবে পড়াশোনার পাশাপাশি সে এখন আরও কঠিন ‘মহিষাসুরমর্দিনী স্তোত্র’ এবং ‘রামচরিতমানস’ মুখস্থ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শৈশবে মস্তিষ্কের গ্রহণ ক্ষমতা সর্বোচ্চ থাকে এবং জাহ্নবীর ক্ষেত্রে সঠিক অভিভাবকত্ব সেই ক্ষমতাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে। প্রাচীন ভারতীয় ঐতিহ্য ও আধুনিক শিক্ষার এই মেলবন্ধন আগামী প্রজন্মের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা।





