মমতার কালীঘাটের বাড়িতে আচমকা জয়া বচ্চন! তৃণমূল-সপা ঘনিষ্ঠতায় রাজ্য রাজনীতিতে জোর জল্পনা

রাজনীতির আঙিনায় ফের এক নাটকীয় মোড়। বৃহস্পতিবার বিকেলে তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও ব্রায়েনের গাড়িতে চড়ে সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবনে হাজির হলেন সমাজবাদী পার্টির রাজ্যসভার সাংসদ জয়া বচ্চন। প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে মুখ্যমন্ত্রী এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক সারলেন বর্ষীয়ান এই অভিনেত্রী ও নেত্রী।

চলতি বছর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর থেকে রাজ্য রাজনীতিতে ক্রমাগত সমীকরণ বদলেছে। বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন আইনি লড়াইয়ে ব্যস্ত, তখন সমাজবাদী পার্টির সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব তাঁকে নৈতিক সমর্থন জানিয়েছিলেন। যদিও পরবর্তী সময়ে অখিলেশ ঘনিষ্ঠ কিরণময় নন্দ মমতার বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে বলেছিলেন, “মানুষ মমতাকেই চায়নি, তাই তিনি হেরেছেন।” এমন টানাপোড়েনের আবহে জয়া বচ্চনের এই আকস্মিক সফর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে।

তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ অবশ্য এই বৈঠককে ব্যক্তিগত সম্পর্কের খাতিরেই দেখছেন। তিনি জানিয়েছেন, মমতা ও জয়ার দীর্ঘদিনের গভীর বন্ধুত্ব। এদিন সাম্প্রতিক বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং দেশের সামগ্রিক অবস্থা নিয়ে দু’জনের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তবে রাজনীতির কারবারিরা মনে করছেন, জয়া বচ্চনের এই উপস্থিতি কেবল সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎকারের চেয়েও বেশি কিছু। বিরোধী শিবিরের একতার বার্তা দেওয়া বা অখিলেশ যাদবের সঙ্গে তৃণমূলের পুরোনো সম্পর্ক ঝালিয়ে নেওয়ার নেপথ্যে কোনো কৌশল আছে কি না, তা নিয়ে জল্পনা চলছে।

অন্যদিকে, শাসকদলের এই বৈঠকের পরেই তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে বিজেপি। রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূলের অস্তিত্ব নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন বিজেপি নেত্রী তথা বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পল। তিনি বলেন, “মমতার বাড়িতে যে কেউ আসতেই পারেন, এটা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। তবে এই তৃণমূল কংগ্রেস এখন ভেঙে অজস্র টুকরোয় পরিণত হয়েছে। দল বা উপদল এত বেড়েছে যে তাদের এখন গোণাই অসম্ভব।” জয়া বচ্চনের সফরকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ও বিজেপি—উভয় শিবিরই এখন একে অপরকে পাল্টা কটাক্ষে বিদ্ধ করছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতির ওপর দাঁড়িয়ে সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে মমতার পুনরায় সখ্যতা গড়ার চেষ্টা কি কেবল জাতীয় রাজনীতিতে মোদি-বিরোধী জোট গঠনের প্রয়াস, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো সমীকরণ রয়েছে, তা সময়ই বলবে। তবে জয়া বচ্চনের কালীঘাট সফর যে আগামী দিনে রাজ্যের শাসকদলের রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতিতে বড় প্রভাব ফেলতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।